পরিবহন নেতা এনায়েত উল্লাহর নামে ১০৭ কোটি টাকার অর্থপাচার মামলা

সিআইডির বিস্তারিত অনুসন্ধান ফলাফলে দেখা যায়, ‘স্ট্রাকচারিং’ বা ‘স্মার্ট লেয়ারিং’ কৌশল ব্যবহার করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অবৈধ অর্থ নানা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে মোট ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৭৪ টাকা মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০১:২৪ পিএম

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনা ট্রান্সপোর্টের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর নামে অর্থ পাচারের অভিযোগে ১০৭ কোটি টাকার মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রমনা থানায় মঙ্গলবার মামলাটি (মামলা নম্বর ১৬) দায়ের করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

সিআইডি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে সংগঠিত চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ আশির দশকের পরে পরিবহন সেক্টরে যাত্রা শুরু করেন। পার্টনারশিপে একটি পুরাতন বাস কেনার মাধ্যমে তাঁর ব্যবসার সূচনা হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি প্রায় ২০টি বাসের মালিক হয়ে ওঠেন। অল্প সময়েই তিনি পরিবহন মালিকদের সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। এরপর তাঁর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব বাড়িয়ে নেন। প্রথমে বিএনপির রাজনীতি, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদও লাভ করেন।

এই রাজনৈতিক পরিচয় খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতন পর্যন্ত টানা ১৬ বছর তিনি ধারাবাহিকভাবে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সংগঠনের সব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং পরিবহন সেক্টরে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল ও অবরোধে পরিবহন সচল রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি সংবাদ শিরোনামে থাকলেও, নিজের কোম্পানির বাসগুলো রাস্তায় নামাতেন না, যা তার কৌশলের অংশ ছিল।

চাঁদাবাজি কার্যক্রমগুলো ছিল অত্যন্ত সংগঠিত ও ভয়ভীতি-ভিত্তিক। এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা সিন্ডিকেট গড়ে বিভিন্ন অজুহাতে বাস মালিকদের কাছ থেকে প্রকাশ্য চাঁদা আদায় করতেন। দৈনিক চাঁদার পাশাপাশি মাসিক চাঁদাও নেওয়া হতো এবং নতুন বাস কোনো রুটে নামাতে হলে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দিতে হতো।  নতুন বাস কেনার সময় মালিকদের সেই বাসের একটি ভাগও এনায়েতকে দিতে বাধ্য করা হতো, না হলে বাসটি সড়কে চলতে পারত না। এর ফলে অনেক কোম্পানি বিক্রির সময় মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে চাঁদা পরিশোধ করত।

ঢাকার প্রতিটি বাস টার্মিনাল খন্দকার এনায়েত উল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতিগুলো থেকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হতো। সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে তিনি পরিবহন সেক্টরে ত্রাসের রাজত্ব চালাতেন।

বিএফআইইউ , বিভিন্ন ব্যাংক, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্র অফিস, বাংলাদেশ মালিক পরিবহন সমিতি এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদসহ অন্যান্য বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্রের ওপর ভিত্তি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে।  অনুসন্ধানকালে ধানমন্ডির ২টি ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের ২টি প্লট বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল মহানগর জজ আদালত, ঢাকা-এর আদেশে ক্রোক করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা, এবং একই আদালতের আদেশে তাদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়, যার মোট স্থিতি প্রায় ১১০ কোটি টাকা। উভয় আদেশই চলতি বছরের ৩ জুলাই কার্যকর করা হয়।

সিআইডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ১৯৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, আর উত্তোলন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে, এনা ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ৪৩টি হিসাবে জমা ৯৩৪ কোটি ৪ লাখ টাকা, উত্তোলন ৯০৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, এনা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ৮টি হিসাবে জমা ৪১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, উত্তোলন ৪০৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ব্যক্তিগত ৭৪টি হিসাবে জমা ৪৫৯ কোটি ৮ লাখ টাকা, উত্তোলন ৪০২ কোটি ৭৩ লাখ টাকার তথ্য জানা যায়। 

সিআইডির বিস্তারিত অনুসন্ধান ফলাফলে দেখা যায়, ‘স্ট্রাকচারিং’ বা ‘স্মার্ট লেয়ারিং’ কৌশল ব্যবহার করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অবৈধ অর্থ নানা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে মোট ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৭৪ টাকা মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪(২) ধারায় মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার পথে লিবিয়া থেকে শরীয়পুরের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। ৩ মাস ধরে তাঁর কোনো খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। এর আগে লিবিয়ার এক বন্দিশালা থেকে তাঁর মুক্তির জন্য নেওয়া হয় ২৫ লাখ টাকা। নিখোঁজ...
গত বছরের ২৭ মে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। আরও গ্রেপ্তার হয় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদ, শ্যুটার আরাফাত ও শরীফ। ২৪ এর ৫ আগস্টের পর একের পর এক হত্যাকাণ্ডে...
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কাজী মিজানুর রহমান লাভলু এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও বৃদ্ধা মা বাড়িতে বসবাস করলেও চিকিৎসাজনিত কারণে তারা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িটি...
কুষ্টিয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে ফারুক হোসেন এবং আবুল শেখ নামের দুই ব্যক্তিকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। হামলায় মুল্লুক মণ্ডল নামের আরও একজন গুরুত্বর আহত...
অবশেষে বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফটাইম শো নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে মুখ খুলল ফিফা। রোববার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের বিরতির সময় হবে ১৭ মিনিট।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের কুমারডাঙ্গা গ্রামে পাওনা টাকা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলিনুর ফকির (৩০) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে...
বহুল প্রতীক্ষিত ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল আজ রাত ১টায়। শিরোপা লড়াইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিশ্ব মঞ্চে এর আগে দুই দল একবারই লড়েছিল। ৬০ বছর পর বিশ্বকাপে...
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসিনা সরকারের অন্যতম সমালোচিত সিদ্ধান্ত ছিল ইন্টারনেট শাটডাউন এবং তা নিয়ে মিথ্যাচার। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রথমবারের মত সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরদিন ১৯...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর