বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নকশায় তৈরি ব্যাটারিচালিত আধুনিক ই-রিকশা প্রাথমিকভাবে রাজধানীর আফতাবনগর ও জিগাতলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) চলবে। তবে এটি কবে থেকে পুরোপুরি চালু হবে, তা এখনও নিশ্চিত করেনি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন।
শনিবার সকালে ই-রিকশার পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করেন সরকারের দুই উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার দুই বিশেষ সহকারী। অনুষ্ঠান শেষে সড়ক উপদেষ্টা জানান, পুরাতন রিকশা চলবে আরও এক বছর। নতুন ই-রিকশা চালু হলে রাজধানীর সড়কে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরবে।
বর্তমানে ঢাকার অলিগলি ও রাজপথে রাজত্ব করছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। দেশে থাকা প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশার ২০ লাখই চলে রাজধানীতে। অথচ এগুলোর কোনো বৈধতা বা চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। অনিয়মের এই বৃত্ত ভাঙতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। বুয়েটের তৈরি রিকশা দিয়ে শুরু হচ্ছে এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘পুরাতন রিকশাগুলোকে আরও এক বছরের জন্য সাময়িকভাবে চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে, যা ট্রাফিক বিভাগ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। সাতারকুলে নতুন রিকশা নামলে সেখানে পুরাতনগুলো আর থাকবে না। সেখানে কতগুলো নতুন রিকশা চলবে, তা ডিএমপি নির্ধারণ করে দেবে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নতুন মডেলের রিকশাগুলোর পাইলটিং শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে মতিঝিলের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের প্রচলিত প্যাডেল রিকশাগুলো পরিবর্তন ও পুনর্গঠন করা হচ্ছে।’
সড়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, ব্যাটারিচালিত পুরনো রিকশাগুলো আরও এক বছর চলতে পারবে। এই সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে সেগুলো রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবার জন্য শহরকে নিরাপদ করতে চাই। যাত্রী ও চালক—সবার নিরাপত্তাই আমাদের লক্ষ্য। আশা করি, নাগরিকরা এই উদ্যোগে সহযোগিতা করবেন এবং আমরা ঢাকাকে একটি বসবাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে পারব।’
নতুন এই ই-রিকশাগুলো আকারে ছোট ও পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত। চালক ছাড়াও এতে দুজন যাত্রী বসতে পারবেন। প্রকল্পটির আওতায় এরই মধ্যে ১২ হাজার চালক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে ২ লাখ চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে রিকশাচালক ভাইদের ট্রাফিক আইনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরা আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পারব।’
জানা গেছে, নতুন এই অটোরিকশার দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। নির্দিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের শোরুম থেকে এই ই-রিকশা কেনা যাবে।



