গোপালগঞ্জে ভালোবাসার মানুষকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে 'চোর' অপবাদ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগী। আত্মহত্যার তিন দিন পর ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সহপাঠিদের মধ্যে। দ্রুত এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবী জানিয়েছে তারা। আর পুলিশ বলছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে শুভ বৈরাগী তার এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে প্রেমিকার পরিবারের নির্যাতন ও সামাজিক অপমানকে দায়ী করে গেছেন। ১ জানুয়ারি লেখাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। এরপরই আত্মহননের পথ বেছে নেন।
পোস্টে শুভ লেখেন, 'আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি তার নাম সঙ্গীতা। বাড়ী কোটালীপাড়া উপজেলার কাফুলাবাড়ি। আজ ৩১/১২/২০২৫ রাতে আমি সঙ্গীতার সাথে দেখা করতে গেলে তার জেঠামশায় আমাকে ধরে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার জেঠার কাছে আমি আমাদের সম্পর্কের কথা খুলে বলি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আমাকে গালাগালি করেন। আমাকে মেরে রক্তাক্ত করে ফেলেছে। তারা আমাকে চোর হিসেবে সকলের সামনে তুলে ধরে, তারা সত্যকে আড়াল করে আমাকে মিথ্যা চোর অপবাদ দিয়ে আমাকে সকলের কাছে দোষী করেছে। তারা আমার এলাকায় ফোন দিয়ে এসব বানিয়ে বলেছে। এতে আমার মানসম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারবো না। আমার সবকিছু তারা শেষ করে দিছে। তাই আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছি। আর আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী সঙ্গীতা, তার বাবা, কাকা, জেঠুসহ তার পরিবারের সবাই।'
জানা গেছে, এই পোষ্ট করার পর পিতৃমাতৃহীন শুভ বৈরাগী সদর উপজেলার বৌলতলী কেকানিয়া গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্প ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। তার পোষ্ট দেখে মোবাইলে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আজ রবিবার দুপুরে ওই ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় শুভ'র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধার করা হলেও কোন আইনি পদক্ষেপ এখনও নেয়নি পুলিশ। পরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যাল থেকে তার সহপাঠিরা এসে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে অবস্থা নেয়। এসময় পুলিশ গিয়ে তাদের সাথে কথা বলে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সহপাঠিদের অভিযোগ ওই মেয়ের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবী জানিয়েছে সহপাঠীরা। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন তারা।
মর্গের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার খবর শুনে ঘটনাস্থলে যান গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



