মাদারীপুরে শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সী হত্যার জের ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। শনিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টাব্যাপী মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ নূর ইসলাম হাওলাদার নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক ও ক্ষমতার আধিপত্য নিয়ে গত বছরের ২৩ মার্চ রাতে শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ওই হত্যা মামলায় লিটন হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে তারা জামিনে বের হয়ে যান।
এরই জেরে শনিবার ভোরে আক্তার হাওলাদার পক্ষের লোকজন শ্রমিক দলের নেতা হান্নান ঢালীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুপুর ১টার দিকে সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হাওলাদার ও নিহত শাকিলের ভাই হাছান মুন্সীর নেতৃত্বে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই সাথে বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যৌথবাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে এবং একজনকে আটক করা হয়।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্থানীয় দুই পক্ষের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ছোটোখাটো ঘটনা ঘটে আসছিল। আজকে তা চরম আকার ধারন করে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।



