যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে মাদারীপুরের মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পৈতৃক বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর কেউই মেনে নিতে পারছেন না। তারা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। তার মা আলভী বেগম। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ঈদের সময় পরিবারের সদস্যরা আসতেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে কর্মরত। বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান একজন প্রকৌশলী। বৃষ্টিও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান।
শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরে এ খবর গ্রামে পৌঁছালে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে ভিড় করেন। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, ‘বৃষ্টি আপু অত্যন্ত মেধাবী ও ভালো মানুষ ছিলেন। সকালে তার বড় ভাইয়ের ফেসবুক পোস্ট দেখে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। এর আগে থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। কীভাবে তাকে হত্যা করা হলো, তা আমরা জানি না। শুনেছি তার এক সহপাঠীর মরদেহ পাওয়া গেছে, কিন্তু আপুর মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’
আরেক চাচাতো বোন ফজিলা আক্তার বলেন, ‘আমরা এই মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। অপরাধীদের শাস্তি চাই এবং দ্রুত মরদেহ দেশে আনার দাবি জানাই।’
নিহতের চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘বৃষ্টি খুব মেধাবী ছিল। বেঁচে থাকলে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে বৃষ্টি ও তার এক সহপাঠীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, মাদারীপুরের এক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন। এ বিষয়ে মূল ভূমিকা পালন করবে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস। পরিবার কোনো সহযোগিতা চাইলে উপজেলা প্রশাসন তা প্রদান করবে।’



