চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। যেকোনো সময় মাথার ওপর ভেঙে পড়তে পারে হলের ছাদ। এমন আতঙ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে লেখাপড়ায়। কলেজের অধ্যক্ষের দাবি, অবকাঠামো উন্নয়নে মেগা প্রকল্পের কারণে আলাদা করে হল নির্মাণ সম্ভব হয়নি। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির। প্রস্তুতি নিচ্ছেন সেকেন্ড টার্ম পরীক্ষার। কিন্তু আতঙ্কে মনোযোগ দিতে পারছেন না লেখাপড়ায়। গতকালও হলের ছাদ থেকে খসে পড়েছে বড় এক কনক্রিটের টুকরো। প্রায়ই ঘটছে এমন ঘটনা।
শুধু সাব্বির নয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শত শত মেধাবী শিক্ষার্থী চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন কলেজের ডা. ফজলে রাব্বি হলে। হলের মূল ভবন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে চতুর্থ তলা এরইমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
সাব্বির বলেন, ‘বারান্দার যেই পিলার গুলো আছে সেই পিলারের কনক্রিট গুলো ধরলেই কিন্তু হাতে খুলে আসছে। এ থেকেই বোঝা যায় ভবন কতটা ঝুকিপূর্ণ।’
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিনিয়ত হলের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীরা আবাসন সমস্যায় ভুগছে। ঢামেকের অবকাঠামো উন্নয়নে মেগা প্রকল্পের কারণে আলাদা করে হল নির্মাণ সম্ভব হয়নি।’
সংকট নিরসনে আশার আলো দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে একনেক নতুন দুটি হল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। সামান্য কিছু জটিলতা আছে, যা চলতি মাসেই সমাধান হবে।’
মেডিকেল কলেজের মতো কঠিন লেখাপড়ায় শিক্ষার্থীদের আরও উন্নত পরিবেশ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
পড়াশোনা শেষ করে যারা চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবদান রাখবেন—তারাই আজ বসবাস করছেন চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে। স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্পেও যেখানে নেমে আসতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়। তাই দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।



