উন্নত জীবন আর ভালো বেতনের আশায় জীবিকার তাগিদে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন মাদারীপুরের সুরুজ কাজী নামের এক যুবক। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগছড়া গ্রামের শাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে। দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হওয়া এই যুবক চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে ড্রোন হামলা ও মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সুরুজের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। এই ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জড়িত দালাল চক্রের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে সুরুজ কাজীকে রাশিয়ার একটি কোম্পানিতে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান একই গ্রামের স্থানীয় দালাল দিলু মাতুব্বর ও ঢাকার জাফর মাতুব্বর। তাদের আশ্বাসে ও চুক্তির ভিত্তিতে পরিবার ৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেয়। এরপর জাফর মাতুব্বরের এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় পাড়ি জমান সুরুজ।
সেখানে পৌঁছানোর পর সুরুজ জানতে পারেন তিনি দালালের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে চুক্তিতে সই করে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি এবং তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সুরুজের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন একই গ্রামের বাসিন্দা ও তার সহপাঠী সাব্বির মাতুব্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাশিয়া থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান সাব্বির। সেই বার্তায় তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা তুলে ধরার পাশাপাশি ড্রোন হামলা ও মাইন বিস্ফোরণে সুরুজের নির্মম মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে জানান।
নিহত সুরুজের বড় বোন শারমিন আক্তার ক্ষোভ ও আহাজারি করে বলেন, ‘আমার ভাইরে গ্রামের দিলু দালাল আর ঢাকার জাফর দালাল দুইজনে মিল্লা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সেনাবাহিনীর কাছে বেইচ্চা হালাইছে। আমি ওই দালালদের ফাঁসি চাই, আমার ভাইরে ফেরত চাই।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল-নোমান বলেন, ‘রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে সুরুজ নামে এক যুবক মারা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালযয়ের মাধ্যমে তার লাশটি দেশে কীভাবে আনা যায় সেই বিষয়টি অবশ্যই আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। তবে তিনি কীভাবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ঢুকে পড়লেন তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু প্রবাসী অধ্যুষিত এই এলাকা থেকে অনেকেই রাশিয়াতে গিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন। আমরা মনে করি এটি একটি ফাঁদ। এই ফাঁদে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সর্তক থাকা দরকার।’



