ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের উদ্যোগে ‘কনজারভেশন অব আর্ট: নেসেসিটি চ্যালেঞ্জেস প্রোসপ্রেক্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনার আজ মঙ্গলবার ওসমান জামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান মি. গোপাল চন্দ্র ত্রিবেদীর সভাপতিত্বে সেমিনারে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ এবং প্রাচ্যকলা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাই শিল্পকর্ম সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। শিল্পকর্মের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা না গেলে জাতির অমূল্য শিল্পসম্পদ কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যথাযথ জ্ঞানসমৃদ্ধ হয়ে শিল্পসাধনায় ব্রতী হওয়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিল্পচর্চার পাশাপাশি তাদের শিল্প সংরক্ষণ বিষয়ক জ্ঞান আয়ত্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, শিল্পকলা ও বিজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চারুকলায় সিরামিক্স, অয়েল পেইন্টিং, কাঠের কাজ, কাগজের কাজ, পাথর কিংবা কাদা নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপকরণের দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ পদ্ধতি জানা অত্যন্ত জরুরি। বাইরের বায়ুদূষণের পাশাপাশি ঘরের ভেতরের বাতাসে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে অভ্যন্তরীণ শিল্পকর্মও মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শিল্পে ব্যবহারকৃত রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে শিল্পীদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান থাকলে পরিবেশ ও শিল্পকর্ম সংরক্ষণ টেকসই হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, মূল প্রবন্ধকার প্রাচ্যকলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম ২০০৭ সালে ভারতের দিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়াম ইনস্টিটিউট থেকে শিল্প সংরক্ষণ বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি নেদারল্যান্ডসের লিমবার্গ কনজারভেশন ইনস্টিটিউটে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন।



