কিশোরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে এক প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। কার্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চার জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম। এক নেতার সংবর্ধনায় চাঁদা না দেওয়ায় হামলা হয়, দাবি তার। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।
বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের নিজ কক্ষে কাজ করছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম। এ সময় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি সোয়াইব আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকসহ ৪ জন তার কক্ষে প্রবেশ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, এক কেন্দ্রীয় নেতাকে সংবর্ধনার চাঁদা না দেয়ার বিষয়ে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাকে চেয়ার দিয়ে মারধর করেন সিবিএ নেতারা। পরে সহকর্মীরা আহত অবস্থায় মাহমুদকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার দুপুরে আমার অফিস কক্ষে ঢুকে অভিযুক্ত চারজন মিলে প্রথমে গালিগালাজ ও পরে হামলা করে।’
এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে পাউবোর অন্যান্য কর্মকর্তারা বলছেন, অফিসের ভেতরেই এমন হামলায় ঘটনায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
তবে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সোয়াইব আহমেদ বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম আমাদের সামনে মরহুম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিষয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে কয়েকদিন। আজ দুপুরে আমরা কয়েকজন বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে তার অফিস কক্ষে গিয়েছিলাম। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে চড় মারেন। তারপর দুই পক্ষ ধস্তাধস্তি হয়।
এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল বলেন, ‘হামলার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সোয়াইব আহমেদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী।’
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।’
তদন্তে হামলার প্রমাণ মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।



