প্লাস্টিকের বোতল বা পলিথিনের মতো বর্জ্য জমা দিলেই পাচ্ছেন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। পরিমাণ এক কেজি হলে মিলবে চাল-ডিম। প্লাস্টিক বর্জ্য ৫ থেকে ৬ কেজি জমা দিলে পাওয়া যাবে পাঙ্গাস মাছ বা ব্রয়লার মুরগি। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্লাস্টিক যত্রতত্র না ফেলার বার্তা দিতেই এ আয়োজন।
রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর। প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যাগ হাতে দীর্ঘ লাইন। কেউ কুড়িয়েছেন, কেউ এনেছেন বাসাবাড়ি থেকে। এখানে অস্থায়ী বাজার বসিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এখানে টাকায় নয়, চাল-ডাল, মাছ-মাংস মিলছে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে।
এক স্কুলশিক্ষার্থী বলছিল, ‘ওরা যে উদ্যোগটা নিয়েছে, খুব ভালো উদ্যোগ। আমাদের কামরাঙ্গীরচর পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন হচ্ছে। বর্জ্যের বদলে আমরা খাদ্য পাচ্ছি।’
স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘দুই কেজি, তিন কেজি, পাঁচ কেজি বর্জের বিনিময়ে একজন পাঁচ থেকে ছয়শো টাকার মতো সদাই পাচ্ছে এটার জন্য অনেক গরীবের উপকার হচ্ছে।’
প্রতি সপ্তাহে এক দিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসছে ভিন্ন রকমের বাজারের। এই বাজারে ছয় কেজি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে মিলছে একটি ব্রয়লার মুরগি। পাঁচ কেজি জমা দিলে পাওয়া যাচ্ছে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ বা এক কেজি সয়াবিন তেল।
এক নারী বলেন, ‘চার কেজি ময়লার বিনিময়ে আমি এক কেজি লবণ পেয়েছি, এক কেজি চাল পেয়েছি আর একটা চানাচুরের প্যাকেট পেয়েছি।’
আরেক নারী বলেন, ‘আমি ৫ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে দুই কেজি ময়দা ও এক লিটার তেল পেয়েছি।’
প্লাস্টিক বর্জ্য যেখানে সেখানে না ফেলার বার্তা দিতেই ডিএসসিসির এ উদ্যোগ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্লাস্টিক বোতল বা পলিথিন ঢাকার সবচেয়ে সমস্যার কারণ।
ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘যখনই যারা খবর পাচ্ছে আমাদের রাস্তার প্লাস্টিক ময়লাগুলো তারা সংগ্রহ করছে। সংগ্রহ করে তারা এখানে নিয়ে আসতেছে। এটা আমাদের একটা অর্জন যে আমরা বোঝাতে পেরেছি বর্জ্য একটা সম্পদ। আপনার বর্জ্যটা না ফেলে দিয়ে সংরক্ষণ করুন। আমাদের এখানে জমা দিয়ে বিনিময়ে বাজার–সদাই পাবেন।’
এর মাধ্যমে প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি।
ডিএসসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ‘আপনি কয়জনকে বর্জ্যের বিনিময়ে খাবার দেবেন? তারপরও আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে। খাবার দেওয়া উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য হলো সচেতন করা।’
প্রতিটি ওয়ার্ডে প্লাস্টিকের বিনিময়ে পণ্য বিক্রির স্থায়ী বাজার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।



