রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা এবং কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনা এখন সবচেয়ে জরুরি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই প্রশাসন কিছুটা সময় নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সার্ভিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি রংপুরের ইতিহাসে একটি বড় হত্যাকাণ্ড। বর্তমানে এর রহস্য উন্মোচনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনা সবচেয়ে জরুরি। সে জন্য প্রশাসন একটু সময় নিয়ে তদন্ত করছে। আমরা আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যে তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’
চার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের মধ্যেই মন্ত্রীর এমন বক্তব্য এল। তিনি বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করাই সরকারের লক্ষ্য।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তিনবার হাসপাতালে এসেছেন এবং নিয়মিত সভা করছেন। আগের সভাগুলোর সিদ্ধান্ত কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, কোনগুলো হয়নি এবং কেন হয়নি—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।’
হাসপাতালে নতুন আইসিইউ বেড চালু না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অ্যানেসথেসিওলজিস্টের অভাবে এতদিন নতুন আইসিইউ বেড চালু করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এক মাসের মধ্যে নতুন আইসিইউ বেড চালু করা সম্ভব হবে।’
স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতসহ প্রতিটি খাত অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে পৌঁছেছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’
সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে জনবল সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।’
এদিকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যার নেপথ্যে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত চার্জশিট দেওয়া ও বিচার শেষ করার বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর এখন তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই নজর থাকবে।



