১১ দলীয় জোটের লংমার্চ জনগণ গ্রহণ করেনি উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘বিএনপিকে হুংকার দেবেন না, বিএনপি শহীদ প্রেসডিন্ট জিয়াউর রহমানের দল, খালেদা জিয়ার দল ও তারেক রহমানের দল। ভয় দেখাবেন না। আন্দোলন সংগ্রাম করে রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি। তাই হুংকার বা অরুচিশীল বক্তব্য দিয়ে কোনো লাভ নেই।’
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যার আগে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত আনন্দর্যালিতে অংশ নিয়ে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা বলেন।
এ্যানি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছর লড়াই করতে করতে জনগণের রায় নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ৬মাস পার হচ্ছে। এখনেই আন্দোলন শুরু করেছেন, এটা ঠিক না। ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ জনগণের সাড়া নেই। এই লংমার্চে চিহিৃত কিছু ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছে। দেশের মানুষ আপনাদের লংমার্চ কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।’
মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যেভাবে উস্কানিমূলক হুংকার দিচ্ছেন, বক্তব্য দিচ্ছেন, এটা জনগণ পছন্দ করে না। যদি দেশের মানুষ আপনাদের এসব কর্মসূচি গ্রহণ করতেন, তাহলে জনগণ সাড়া দিতেন।’
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘এতদিন যারা গুপ্ত ছিল, ওইসব কর্মী বা চিহিৃত লোক দিয়ে লংমার্চ হয় না। এরা রাজনীতি করে না। এরা নামে জামায়াতে ইসলামী। এরা আমার আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। জামায়াত ইসলামীর মধ্যে কোনো আলেম ও ভালো কোনো ব্যক্তি নেই। এরা গুপ্ত। এরা দেশের জন্য ক্ষতিকর। এরা সামাজের জন্য ক্ষতিকর। তাই এদের কাছ থেথে সবাইকে দূর থাকতে হবে। সবাই সাবধানে থাকতে হবে।’
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবউদ্দিন সাবুর সভাপতি ও যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এ্যানি আরও বলেন, ‘বাড়িবাড়ি গিয়ে মা-বোনদেরকে ইসলামের নামে অপব্যাখা দেওয়া হচ্ছে। এরা নাকি আল্লাহর দল। জামায়াত করলে বেহেশত পাবে। বেহেশত এত সহজ নয়। তাই মা-বোনদের প্রতি আহ্বান থাকবে, এদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে। সর্তক থাকতে হবে।’
এ সময় আরও ব্যক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা ও বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, পৌরসভা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলীম হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন, স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির স্বপন, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ কৃষকদলের সভাপতি মাহাবুব আলম মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান অভিসহ আরও অনেকে।
পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নেতৃত্বে শহরের আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উত্তর তেমুহানী গিয়ে শেষ হয়। এসময় জেলা-উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, কৃষকদলসহ অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেয়।



