শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ীতে ষাটোর্ধ্ব দুই ব্যক্তি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এ খুনের ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার নকলা উপজেলার গৌড়দ্বার ইউনিয়নে এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার কালিনগর গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গকাল রাত ১২টার দিকে নকলা উপজেলার গৌড়দ্বার ইউনিয়নের রুনীগাও মধ্যপাড়ায় একটি পুকুর থেকে আইয়্যুব আলীর (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইয়্যুব আলী ওই গ্রামের দছির উদ্দিন মেম্বারের ছেলে এবং পেশায় একজন দর্জি। প্রতিদিনের মতো নকলায় দর্জির কাজ করতে দোকানে যান তিনি। কিন্তু বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজির পর পুকুরে তাঁর মরদেহ দেখতে পান।
স্বজনদের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে একই বাড়ির ভাতিজা মুকুল মিয়াদের সঙ্গে আইয়ুব আলীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। তারাই আইয়ুব আলীকে খুন করেছে বলে অভিযোগ তাদের। স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিহতের ভাতিজা মুকুল মিয়া (৪৫) ও তাঁর দুই ছেলে মহসিন হাসান (২৩) এবং জিহান হাসানকে (২০) আটক করে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে গলায়, বুকে ও চোখের ওপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। পরিবারের প্রাথমিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা রাতেই তিনজনকে আটক করেছি। যাচাই-বাছাই চলছে, পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এদিকে গতকাল বিকেলে নালিতাবাড়ী উপজেলার কালিনগর গ্রামে বাড়িতে বেড়া দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মজিবর রহমান ওরফে ময়েজ উদ্দিন (৬৫) নামের একজনকে তাঁর শ্যালক ইউনুছ আলী লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন মজিবর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নালিতাবাড়ী উপজেলা হাসপাতালে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
মজিবর রহমান উপজেলার আয়নাতলী গ্রামের মৃত মীরু শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত শ্যালক ইউনুছ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ি থানা ওসি ছানোয়ার হোসেন বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



