শেরপুরের তিনটি মসজিদে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ১৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে শুধু নালিতাবাড়ী মডেল মসজিদের বিল আট লাখ টাকার বেশি। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় বিল পরিশোধ করতে পারছে না ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বকেয়া বিল আদায় করতে না পেরে সংকটে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সরকারি অর্থায়নে শেরপুর সদর ও নালিতাবাড়ীতে এবং শ্রীবরদীতে মডেল মসজিদ নির্মাণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আধুনিক এসব মসজিদে রয়েছে একাধিক নামাজের কক্ষ, দামি ঝাড়বাতি, শত শত লাইট, ফ্যান ও এসি। এতে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে বিদ্যুৎ বিল আসে। সবমিলিয়ে তিন মসজিদে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা বকেয়া পড়েছে।
মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ইসলামিক ফাউন্ডেশন বহন করলেও বিদ্যুৎ বিল, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য খরচ দানের অর্থে মেটানোর বিধান রয়েছে।
মসজিদের কর্মচারীরা জানান, সরকারই এসব মসজিদের যাবতীয় খরচ বহন করার কথা। এখানকার সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষদের পক্ষে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিল দেওয়া সম্ভব নয়।
সম্প্রতি বিল পরিশোধ না করায় নালিতাবাড়ী মডেল মসজিদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। পরে প্রশাসনের অনুরোধে প্রিপেইড মিটারে সংযোগ দিয়ে লাইন চালু করা হয়।
শেরপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তিনটি মসজিদেই বিদ্যুৎ বিল বাকি আছে। সদর উপজেলায় প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকার কাছাকাছি এবং শ্রীবরদী মডেল মসজিদে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মতো বিল বাকি। এ ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি।’
টাকা না থাকায় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারছে না ইসলামী ফাউন্ডেশনের স্থানীয় কর্মকর্তারা।
শেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এস এম মোহাইমেনুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ যে মসজিদে দান করবে বা ডোনেশন দেবে সেই সুযোগটা আমরা খুব একটা পাচ্ছি না। এ কারণেই এ সমস্যা যে শুধু শেরপুরের মডেল মসজিদেই তা নয়, সারা বাংলাদেশের মসজিদগুলোতেই এ সমস্যা হচ্ছে।’
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, দেশের তিন শতাধিক মডেল মসজিদে প্রায় ১৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।



