ভারত ও ভুটান থেকে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বন্দরটি। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কাজ হারিয়েছেন হাজারো শ্রমিক। এই এক বছরে বন্দরের রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় অর্ধেকে।
একসময় কয়লা ও পাথরের আমদানিতে সরগরম থাকত নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দর। কয়লা আমদানি বন্ধ হয়েছে অনেক আগেই। বহুদিন ভারত ও ভুটান থেকে আসা পাথরের ওপরই নির্ভরশীল ছিলো বন্দরটি। গত এক মাস বেহাল সড়কের কারণে পাথর আমদানিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবছরও বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সীমানার ওপারের ভারতীয় সড়ক। তাই বন্ধ পাথর পরিবহন। আমদানির জন্য টাকা পরিশোধ করেও পাথর পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা।
স্থলবন্দরের একজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা যারা ব্যবসায়ীরা আছি এদের অবস্থা বেশি একটা ভালো না। বেচাকিনি নাই। পাথর আসতেছে না। যারা শ্রমিক আছে এতের অবস্থাও ভালো না।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা এই ব্যবসা করতেছি। এটা যেকোনো কারণে বন্ধ। এখন আবার ইন্ডিয়াতে রাস্তার সমস্যা। এইজন্য রাস্তা বন্ধ।
পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় কাজ হারিয়েছেন বন্দরের কয়েক হাজার শ্রমিক। তাদের দাবি, পাথরের পাশাপাশি সুপারি, ফলমূল, ফ্লাই অ্যাশসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলে সংকট কম হতো।
স্থানীয় এক শ্রমিক নেতা বলেন, যখন কাজ থাকে তখন তো কইরা খাই। কাজ না থাকলে ঋণ কইরা খাওন লাগে। পাথর এই আইয়ে, এই আইয়ে না। এইভাবে চলাছে। যখন কাজ হয় তখন ওই ঋণ দিতে দিতে আবার কাজ বন্ধ।
এক শ্রমিক বলেন, ইন্ডিয়ায় রাস্তা বন্ধ এই কারণে বাংলাদেশে গাড়ি আসতেছে না।
আরেক শ্রমিক নেতা বলেন, বিভিন্ন উসিলাতেই পাথর আসা বন্ধ হয়ে যায়। এসময় আমাদের শ্রমিকগুলো বেকার হয়ে যায়।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে তথ্য আছে যে, ভারতে সড়ক খারাপ থাকায় পাথর আমদানি হচ্ছে না। কবে পাথর আমদানি শুরু হবে তাও বোঝা যাচ্ছে না।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ইন্ডিয়ার সাইডে রাস্তা খারাপের কারণে প্রায় এক মাস যাবৎ ভুটানি পণ্য যেটা আমদানি হতো ওইটা এখন বন্ধ রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টন পাথর আমদানি হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।



