সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. মিজানুর রহমানের একটি ওয়াজ মাহফিলের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তিনি বলেছেন, ‘যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নাই।’ তবে তাঁর দাবি, একটি পক্ষ এখন এসব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর কাশিনাথপুর আব্দুল মজিদ হাফিজিয়া ও দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়নকল্পে আয়োজিত মসজিদের ইসলামী জালসায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার তাঁর এমন একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে জামায়াত নেতা মিজানুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নাই। আমি অনুরোধ করতে চাই, যারা হাত তোলেন নাই, আমি বলব আজকে যদি কোরআনের মাহফিল শোনেন, কোরআনের কথা হবে। কোরআন আর আল্লাহর আইনকে প্রতিষ্ঠার জন্য সবাই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবেন।’
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজনদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। চলছে পক্ষে-বিপক্ষে হাজার মন্তব্য।
এ বিষয়ে জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি মাস দুয়েক আগে ওই জালসায় বক্তব্য দিয়েছি। তবে ভিডিওতে যেভাবে এসেছে আমি সেভাবে বলি নাই। আমি বলেছি সকলকে কোরআনের পথে আসা বাঞ্ছনীয়। তিনি বলেন আমার প্রতিপক্ষ কোনো প্রার্থী আমার ভুল ধরতে না পেরে এগুলো ছড়াচ্ছে। আমি বলেছি কোরআনের মাহফিলে কোরআন নিয়েই আলোচনা হবে, আমিতো কোনো ভুল কথা বলিনি। একটি পক্ষ এখন এসব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনেই জয়লাভ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বরাবরই ধর্মকে ব্যবহার করে। যেহেতু দলটির নামের সাথে ইসলাম, সেহেতু তারা ইসলামকে ব্যবহার করে। যারা দ্বীনী আলেম তারা এ জন্যই জামায়াত ইসলামকে পছন্দ করে না। তারা মওদুদীবাদ কায়েম করতে চায়। আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান, এটা একটা দুর্বলতম জায়গা, তারা এটা ব্যবহার করতে চায়। আর ইসলামী জলসায় মানুষ কোরআন-হাদিসের আলোচনা শুনতে যায়। সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয় বলে আমি মনে করি।’



