লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ জন নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলার দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় ৯ জন দালালসহ আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা করেছেন নিহতদের স্বজনেরা।
গতকাল সোমবার রাতে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দুটি দায়ের করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের নিহত সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান বাদী হয়ে ৪ জন দালালের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা করেন। অন্যদিকে, জগন্নাথপুর থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান।
গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে গ্রিস উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকায় খাবার ও পানির তীব্র সংকটে ২২ জন অভিবাসী প্রাণ হারান। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি, যার মধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের একজন রয়েছেন।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, জনপ্রতি ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নিরাপদ বড় নৌকায় ইতালি পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করেছিল দালাল চক্র। কিন্তু লিবিয়া থেকে তাদের অত্যন্ত ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। মাঝ সমুদ্রে খাবার ও পানি ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরে তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার বলেন, ‘আমরা জড়িতদের কয়েকজনের নাম পেয়েছি। কেউ দেশে এবং কেউ বিদেশে অবস্থান করছে। এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আরও নাম বেরিয়ে আসলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।’



