আগামী বছরেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে উত্তরণের পর তৈরি পোশাক ও রপ্তানির অন্যান্য খাতগুলোতে যে বাড়তি চাপ আসবে, তা সামলাতে প্রস্তুত নন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি প্রণোদনার হারও কমতে পারে আসছে বাজেটে। বিশ্লেষকদের মতে, লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রি (এলডিসি) উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে বাজেটে থাকতে হবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
২০২৬ সালেই এলডিসি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে বাংলাদেশ। তবে উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে রপ্তানি খাত।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। যেখানে রপ্তানি খাতে প্রণোদনা ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকা। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হলে এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
তবে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলছেন, উত্তরণের জন্য প্রস্তুত নয় তৈরি পোশাকসহ বেশ কয়েকটি খাত।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচলক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে এসব খাতে প্রণোদনার পরিবর্তে, আগামী বাজেটে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, বাড়তি শুল্কের প্রভাবে এলডিসি উত্তরণের পর বছরে রপ্তানি কমতে পারে সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া সীমিত হবে সহজ শর্তের আন্তর্জাতিক ঋণ প্রাপ্তি।



