বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য টেক্সটাইল মিল বন্ধের ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বায়ার’স কাউন্সিল। টেক্সটাইল মিল বন্ধ হলে দেশের রপ্তানি খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে উল্লেখ করে সংকট উত্তরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংগঠনটির সভাপতি বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে বায়ার’স কাউন্সিল।
বায়ার’স কাউন্সিলের সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, কাউন্সিলের সদস্যরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও রিটেইলারদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক রপ্তানি আদেশ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। এসব আদেশের একটি বড় অংশে ফ্যাব্রিক বুকিং সম্পন্ন, এলসি বা পেমেন্ট কমিটমেন্ট দেওয়া, প্রোডাকশন টাইমলাইন নির্ধারিত এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ডেলিভারি ডেট ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত বা অত্যন্ত নিকটবর্তী।
এ অবস্থায় টেক্সটাইল মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে চলমান ও অনুমোদিত অর্ডারগুলোর কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হবে, রপ্তানি ডেলিভারিতে গুরুতর বিলম্ব ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের সরবরাহ সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। একই সঙ্গে বায়ার হাউস, গার্মেন্টস কারখানা এবং সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই চেইনের ওপর চুক্তিগত ও আর্থিক ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বায়ার’স কাউন্সিলের সদস্যরা কোনোভাবেই এ সিদ্ধান্তের অংশীদার নন, অথচ এর সরাসরি ও তাৎক্ষণিক ক্ষতির বোঝা তাদের ওপরই এসে পড়ছে। অর্ডার বাতিল, পেনাল্টি, এয়ার শিপমেন্ট খরচ কিংবা ক্রেতা হারানোর দায় বায়ার হাউস এককভাবে বহন করতে পারে না, যা বাস্তবসম্মতও নয়।
এ পরিস্থিতিতে অন্তত চলমান ও পূর্বে গ্রহণ করা রপ্তানি আদেশের ক্ষেত্রে ফ্যাব্রিক ডেলিভারি অব্যাহত রাখার জন্য একটি ট্রানজিশনাল বা এক্সেপশন ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বায়ার’স কাউন্সিল বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে একটি সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, শিল্পখাতের কোনো একটি অংশের সংকট নিরসনের নামে অন্য অংশকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া সমীচীন নয়। রপ্তানি খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে পারস্পরিক সমন্বয় ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত এখন সময়ের দাবি।
সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সদয় বিবেচনা ও দ্রুত দিকনির্দেশনার প্রত্যাশা জানানো হয়েছে বায়ার’স কাউন্সিলের পক্ষ থেকে।



