অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা, দুর্বল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং কমতে থাকা রাজস্ব আদায়- এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলেই সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। রাজধানীতে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জনতুষ্টি নয়, বরং সংযমের অর্থনীতির দিকেই যেতে হবে নতুন সরকারকে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘নতুন সরকারের সুচনাবিন্দু অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক আলোচনায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা যাচাই করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে মূল্যস্ফীতির হার এখনো অনেক বেশি। পরিস্থিতি উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি হার সামান্য কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা তহবিলের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, টাকার বিনিময় হার ক্রমান্বয়ে সমন্বয় করাসহ ১০টি নীতিগত সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘নতুন যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এই নতুন প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে এখন একটা খুবই ধীরে চলো নীতি ধারণ করে যেসব প্রকল্প শেষ হয়ে যাচ্ছে সেইটায় বরং মনযোগ দিয়ে যেটুকু আছে সেইভাবে যেন তারা এফোর্টটা দেন।’
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির ইশতেহারে যেটা বলা হয়েছে সেটা হলো জিডিপির অংশ হিসাবে ৫%করে, ৫% করে বৃদ্ধি করা। আরেকটা সাইড হলো অর্থায়ন। আমার যদি রাজস্ব আয় বাড়েও, তাহলে আমি টাকার অঙ্কে স্বাস্থ্যে বেশি দিতে পারব। টাকার অঙ্কে আমি শিক্ষায়ও বেশি দিতে পারব।’
প্রতিবেদনে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জনকে ‘অর্জনযো্য’ উল্লেখ করলেও জিডিপির ১৫ শতাংশ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যকে ‘অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী’ বলা হয়েছে। এসময় সরকারকে সংযমের অর্থনীতিরি দিকে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যদি কৃচ্ছতা না করেন, অন্তত সংযম না দেখান তাহলে কিন্তু আগামী অর্থ বছরে মূল্যস্ফিতী থেকে আরম্ভ করে অন্যান্য অসুবিধাগুলো খুবই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এক কথায় হলো– সরকারের এই মুহূর্তে কোনো জনতুষ্টিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নাই।’
এসময় অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরসহ যে সব বৈদেশিক চুক্তি করেছে তা নতুন সরকারকে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন বিশ্লেষকরা।



