তিতাসের অনুমোদনের পরও দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় প্রায় ৫০০ শিল্প প্রতিষ্ঠান। শিল্পের জন্য নতুন আবেদন পড়েছে আরও এক হাজার।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাস সংকট সমাধানে উদাসীন ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। শিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে গ্যাসকূপ খনন ও নতুন করে এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
দেশে বিদ্যুৎ, শিল্প, পরিবহন, গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন খাতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা কমপক্ষে ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কম। যার মধ্যে শিল্পখাতে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎসহ ব্যবহার হয় ১১০০ ঘনফুট।
বিতরণ সংস্থা তিতাস বলছে, ৫ শতাধিক নতুন শিল্পের অনুমোদন দেওয়া ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ২৫টি সংযোগে ছাড়পত্র দেয়। লোড বাড়ানো, নতুন সংযোগসহ শিল্পখাতে কমপক্ষে আরও ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে।
তিতাস গ্যাস পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন) কাজী সাইদুল হাসান বলেন, ‘৪৮০টার মতো এখনও; যেগুলো অনুমোদিত আছে, কিন্তু কমিশনিংয়ের পর্যায়ে আটকে আছে। এখানে প্রায় ৩৭০ থেকে ৩৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস লাগবে। আরও নতুন এক হাজারের বেশি আবেদন আছে আমাদের কাছে।’
শিল্প মালিকরা বলছেন, গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়লেও, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ মিলেনি কখনো। জ্বালানি সংকটে কোনো কোনো শিল্প, উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে ৪০ ভাগ কমে চলছে।
বিটিএমএ–এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘যে বিনিয়োগগুলো হয়েছে, সেগুলো কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উনারা যে পদক্ষেপ নেবেন, সেটারও কোনো প্রতিফলন আমি দেখিনি। উনাদের কোনো টেন্ডার আহ্বান করার কোনোকিছু আমি দেখতে পাইনি। নতুন করে কোনো গ্যাস সংযোগ সেটাও হয়নি।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় গ্যাসের অনুসন্ধান অবহেলিত ছিল, তাই ৬ বছরের মাথায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন থেকে কমে উৎপাদন ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘরে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের যে ডমেস্টিক এক্সপোরেশনটা যেটা চালু আছে এটাকে ত্বরান্বিত করতে হবে। এটাকে একদম শতভাগ সিরিয়াসনেস দিয়ে এটাকে মনোযোগ দিয়ে, ফান্ডিং করে এটাকে চালু রাখতে হবে। বাকিটা আমরা এলএনজি আমদানি করতে হবে। এলএনজির জন্য আমাদের এফএসআরইও বাড়াতে হবে। এবং যা যা করণীয় করতে হবে।’
২০২৫ সালে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। দাম বাড়ানোর পরও চলতি অর্থবছরে ভর্তুকিতে বরাদ্দ আছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।



