মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম এরই মধ্যে বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইনসগুলোর খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এর কারণে খুব শিগগিরই যাত্রীদের পকেটে টান পড়তে পারে।
মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি গত সপ্তাহে সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, ‘এ প্রভাব খুব দ্রুতই শুরু হতে পারে।’
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর গত বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বেড়ে ব্যারলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়। গত চার বছরে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। অবশ্য সপ্তাহ শেষে এটি কিছুটা কমে এখন অবস্থান করছে ৯৯ ডলারে।
এই যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এয়ারলাইনসগুলো মারাত্মক সমস্যার মুখে রয়েছে। এভিয়েশনসংক্রান্ত বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বাতিল হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ফ্লাইট।
আমেরিকান এয়ারলাইনসের সাবেক নির্বাহী রব ব্রিটন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘আপাতত জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি, তবে দাম বেড়েছে। জ্বালানির দাম বেশি থাকলে ভাড়াও বাড়বে—এটাই বাস্তব। সহজ হিসাবে, টিকিটের দাম প্রায় একই হারে বাড়তে পারে।’
সাধারণত কর্মীদের বেতনের পর এয়ারলাইনসগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে জেট ফুয়েল কিনতে। এটি মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
রব ব্রিটন বলেন, ‘সাধারণভাবেই দেখা যায়, জ্বালানির দাম বাড়লে এয়ারলাইনসগুলো দ্রুত ভাড়া বাড়ায়।’
অবশ্য সব সময় খরচ বৃদ্ধির পুরোটা যাত্রীদের ওপর চাপানো সহজ হয় না। ট্রাভেল নিউজলেটার ‘ফ্রম দ্য ট্রে টেবিলের’ লেখক জ্যাক গ্রিফের মতে, টিকিটের দাম শুধু জ্বালানির ওপরই নির্ভর করে না।
জ্যাক গ্রিফ বলেন, ‘ফ্লাইটের দামের পেছনে অনেকগুলো বিষয় থাকে, শুধু জ্বালানি নয়। যাত্রীর চাহিদাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। যদি মূল্যস্ফীতি বা বেকারত্বের কারণে মানুষ ভ্রমণ কমিয়ে দেয়, তাহলে খরচ বাড়লেও এয়ারলাইনসগুলো ভাড়া বাড়াতে পারবে না।’
সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জ্বালানির বাজার খুবই অস্থির এবং এতে সামান্য পরিবর্তনও লাভে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যাত্রীরা যেহেতু আগেই টিকিট কেনেন, তাই হুট করে ভাড়া বাড়িয়েও সব সময় ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না।
ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি জানান, জ্বালানির দাম বাড়লে এয়ারলাইনসটির লাভে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। কিরবি বলেন, ‘পরবর্তী প্রান্তিক তো বটেই, এমন চলতে থাকলে দ্বিতীয় প্রান্তিকেও এর প্রভাব পড়বে।’
যাত্রীদের ওপর যে প্রভাব পড়তে পারে
জ্বালানির খরচ বাড়লে এয়ারলাইনসগুলো এখন লাভজনক নয় এমন কিছু ফ্লাইট বন্ধ করে দিতে পারে। এতে ফ্লাইট সংখ্যা কমবে, বাড়তে পারে টিকিটের দাম।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক ফ্লাইট বন্ধ। এতে লম্বা দূরত্বের লাভজনক রুটগুলো থেকেও এয়ারলাইনসের আয় কমছে।
বোয়িং ৭৭৭-এর মতো বড় উড়োজাহাজগুলো একসঙ্গে ৪৫ হাজার গ্যালনের বেশি জ্বালানি বহন করতে পারে। ফলে জ্বালানির দামে সামান্য হেরফের হলেই এয়ারলাইনসের খরচ ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এ কারণে কিছু এয়ারলাইনস আগেই জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে রাখে। এ ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হলো জ্বালানির দাম কমলেও তাদের চুক্তি অনুযায়ী দাম দিতে হয়।
অবশ্য এখন পর্যন্ত উড়োজাহাজের ভাড়ায় তেমন বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে বড় পরিবর্তন চোখে না পড়লেও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রভাবের সম্ভাবনা বেশি।
সাধারণত এয়ারলাইনসগুলোর গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে (জুন-জুলাই) ভাড়া তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই আগেভাগে টিকিট কিনে রাখলে খরচ কিছুটা কম হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন



