বেসরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বেচাকেনার সুযোগ রেখে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট পলিসি করেছে সরকার। এই নীতির মাধ্যমে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সরকারকে সঞ্চালন ফি সহনীয় রাখার দাবি শিল্পমালিকদের। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এ ধরনের বিদ্যুতের দামে অতিরিক্ত খরচের চাপ বসালে নীতিমালার সুফল মিলবে না।
বিভিন্ন কেন্দ্রে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, তা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কিনে কয়েকটি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহ করে। এখন মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট পলিসির মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে, উৎপাদন ও বেচাকেনায় বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়াতে জোর দিচ্ছে সরকার।
নীতিমালার আওতায় বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। তারা সরাসরি শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করবে।
তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানিখাতের বিদেশি ক্রেতারা এখন পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জোর দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে কারখানায় সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান শিল্পমালিকরা।
বিজিএমইএ সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, ‘যখন আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে চাচ্ছি তখন সাপোর্ট না পেলে আমাদের কারখানা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। সেবার চার্জ বাড়ালে এবং যে সাবসিডিগুলো দেওয়া হয় এইটা আমাদের ওপর চাপালে হবে না।’
মার্চেন্ট পলিসি ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এমন বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে জাতীয় গ্রিডসহ অন্যান্য সেবার চার্জ সহনীয় রাখতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, ‘বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এমন বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সেবা চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা উচিত।’
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্চেন্ট পলিসি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অল্প সময়েই মিলতে পারে ১ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ। এতে সরকারের ভর্তুকির বোঝাও কমবে।



