আসছে বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করতে বড় ধরনের কর ছাড়ের ঘোষণা আসছে। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর অবকাশ দেওয়া হতে পারে। সেইসঙ্গে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারে অগ্রিম আয়কর ব্যাপকহারে কমতে যাচ্ছে। এসব গাড়ির আমদানিতেও শুল্ককর কমানো হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগে জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমবে বলে মনে করেন গবেষকরা।
প্রতি বছর জ্বালানি তেল, এলএনজি, কয়লা, বিদ্যুৎ আমদানিতে খরচ হচ্ছে ১৮ বিলিয়ন ডলার। এত বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে অর্থনীতি। অথচ সৌর, বায়ুসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে এই চাপ কমানো সম্ভব বলে মনে করেন গবেষকরা। তবে, এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, প্যানেল, ব্যাটারি, ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে মোট করের চাপ ২৮ থেকে ৯৩ ভাগ পর্যন্ত। অথচ মোট ডিজেলের ৬১ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে পরিবহণে এবং ১৩ ভাগ কৃষি সেচে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলো দ্রুত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির শুল্ক ও করকাঠামোর ওপর থাকা সব ধরনের ভর্তুকি তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে সবুজ কর ও সবুজ বাজেট কাঠামো নিশ্চিত করা।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ‘ডিজেল, এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির কারণে দেশ বর্তমানে বহুমুখী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় বেশিরভাগই আমদানি করতে হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জ। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের গতি এখনও বেশ ধীর।’
অংশীজনদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবারের বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অবকাশের প্রস্তাব আসতে পারে। একই সাথে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিল পরিশোধেও ৫ ভাগ কর রেয়াত দেওয়া হতে পারে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এবারের বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ খাতে করছাড় দেওয়া হতে পারে।’
ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহার উৎসাহিত করতে বিআরটিএ-তে রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নে অগ্রিম আয়কর কমছে। সেইসঙ্গে ইলেক্ট্রিক চার্জিং স্টেশন, ইলেক্ট্রিক বাস এবং ইলেক্ট্রিক ট্রাক আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে কর অব্যাহতির প্রস্তাব থাকতে পারে।



