বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে ডিজেলের দাম। এজন্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায় দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এই সংকট ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। বাংলাদেশ ও উন্নয়নশীল দেশে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা। রয়টার্স।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর কয়েক মাস ধরেই উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। পাল্টাপাল্টি হামলায় জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত তেল রপ্তানি। একইসাথে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে কমেছে ডিজেল সরবরাহ।
অন্যদিকে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার পর জুলাইয়ে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় মস্কো। বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক রাশিয়া আগে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ করত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি ঘটনায় বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ কমেছে, বাড়ছে দাম। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।
জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ফিলিপ ভারলেগার বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ায় বাংলাদেশের মতো দেশে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এলএনজির ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। এশিয়ার অনেক দেশের কৃষক ডিজেল পাম্পের ব্যবহার কমানোর কথা ভাবছেন।’
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার আবারও চালু হওয়া এবং হরমুজে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হলে সংকট সমাধান হবে।
ফিলিপ ভারলেগার বলেন, ‘রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগারগুলো আবার চালু হওয়া এবং হরমুজ দিয়ে ডিজেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। সবকিছু ঠিক হলেও বাজার স্বাভাবিক হতে আরও ৬ মাস লাগতে পারে। তাই সংকট চলবে এক বছর পর্যন্ত।’
এদিকে, অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমাতে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। সেটি হলে সীমিত সরবরাহের জন্য ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোকে আরও বেশি প্রতিযোগিতা করতে হবে। বিশ্ববাজারে আরও বাড়তে পারে ডিজেলের দাম।
নির্ভরযোগ্য ডিজেল সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এই সংকট চীনের মতো দেশগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করছে।
জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ফিলিপ ভারলেগারের ভাষ্য, ‘বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবস্থা হওয়ায় চীনের অতিরিক্ত জ্বালানি সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অন্য দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি রপ্তানি বাড়িয়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, রুশ সরবরাহ সংকট ও বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তায় ডিজেলের দাম বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এর চাপ পড়তে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাধারণ মানুষের ওপর।


