নির্বাচনের পরও ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা কাটেনি, ফলে বিনিয়োগ স্থবিরতায় ব্যাংকগুলো মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার মতো গ্রাহক পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে খেলাপি ঋণের চাপ, সুশাসনের ঘাটতির মতো বহুমুখী সংকটে দেশের ব্যাংকিং খাত। বুধবার ব্যাংকিং সম্মেলনে এসব বিষয় উঠে আসে। এ সময় সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘নৈতিকতা ছাড়া ব্যাংক খাতের সংস্কার সম্ভব নয়’।
ব্যাংকিং খাতের সংকট কাটিয়ে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর পথ খুঁজতে শুরু হয়েছে বিআইবিএমের ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন। আলোচনায় উঠে এসেছে, ব্যাংকের পরিচালনা, ঋণ বিতরণ ও তদারকিতে কাঠামোগত সংস্কার মতো বিষয়গুলো।
ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংক খাতে আস্থার সংকটের অন্যতম কারণ অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগে খরা এবং সুশাসনের ঘাটতি। আর খেলাপি ঋণ আদায়ের ধীরগতি এ খাতে অস্থিরতা আরও বাড়াচ্ছে।
এবিবি চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘নির্বাচনের পরও অনিশ্চয়তা না কাটায় বড় এলসির গ্রাহক পাচ্ছেনা ব্যাংকগুলো, অন্যদিকে খেলাপি ঋণ আদায়ের ধীরগতি ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা আরও বাড়াচ্ছে। এছাড়া তিন বছরেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত সময়ে ব্যাংক খাতে লুটপাটের কারণে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তাই শুধু নীতিমালা পরিবর্তন নয়, আমানতকারীর অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহি বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘দেশের ব্যাংক খাত প্রথম নষ্ট হয়েছিল ঋণখেলাপির সংস্কৃতিতে। পরে এ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসলেও নতুন করে তৈরি হয় ব্যাংক লুটপাটের সংস্কৃতি। এ কারণেই আর্থিক খাত এই খারাপ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।’
খেলাপি ঋণ আদায়কেও বড় চ্যালেঞ্জ বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই খেলাপি আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন নিশ্চিতের তাগিদ তাদের।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও আর্থিক খাতের বাইরে। নতুন আর্থিক সেবা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারলে আরও বেশি উদ্যোক্তাকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা সম্ভব।’
সম্মেলনে ব্যাংকিং খাতের জন্য বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয় জরুরি হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।


