শিশুর প্রথমবার স্কুলে যাওয়ার সঠিক সময় কখন?

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৬ পিএম

শিশুর জীবনের প্রথম স্কুলে যাওয়া শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু নয়, বরং শিশুর সামাজিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। শিশুর পরিবার ও বাবা-মা শিশুকে কখন স্কুলে দেওয়া উচিত তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন এবং এবং স্কুলের শুরুর সময় তার মানসিক বিকাশে কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে তা নিয়ে চিন্তিত হন।

শিশুর প্রথমবার স্কুলে যাওয়ার সঠিক সময়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের গবেষণা অনুযায়ী, শিশুর মস্তিষ্কের দ্রুত বিকাশ ঘটে জন্মের প্রথম পাঁচ বছরে। নিউরোসায়েন্স প্রমাণ করে যে, এই সময়ের অভিজ্ঞতা এবং শিখন ভবিষ্যতের শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করে।

ইউনিসেফ পরামর্শ অনুযায়ী, চার বছর বয়স থেকেই শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা উচিত। বিশেষ করে প্লে­গ্রুপ বা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার আওতায়। এটি শিশুকে পরবর্তী শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করে এবং তাদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সহজ করে।

শিশুর মানসিক বিকাশের উপর ভিত্তি করে তার প্রথম স্কুলের অভিজ্ঞতা সফল বা চ্যালেঞ্জপূর্ণ হতে পারে। সুতরাং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া উচিত।

শিশুর প্রথম স্কুলে যাওয়া শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু নয়, বরং শিশুর সামাজিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত সামাজিক দক্ষতা বিকাশ

স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুর মধ্যে সামাজিক দক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিশুকে শেখাতে হবে কীভাবে অন্যদের সাথে খেলতে এবং শেয়ার করতে হয়। আবার শিশুকে শেখাতে হবে তার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে। রাগ, কান্না, হাসি, জেদ সবকিছু নিয়ে শিশুর কথা বলা উচিত। পাশাপাশি নানা কাজ ও নিজেদের জীবনের উদাহরণের মাধ্যমে তাকে শেখানো উচিত।

আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা

শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার জন্য তাকে ছোট ছোট কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এতে তার নিজের উপর আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং বিদ্যালয়ে তার মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।

ভাষা এবং যোগাযোগ দক্ষতা

শিশুর বিদ্যালয়ে ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ভাষাগত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা এবং গল্প পড়া তার ভাষাগত দক্ষতা উন্নত করে।

খেলা-ভিত্তিক শিক্ষা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত শৃঙ্খলা এবং নিয়ম মানার অভ্যাস

বিদ্যালয়ের পরিবেশে শৃঙ্খলা একটি বড় ভূমিকা পালন করে। সুতরাং শিশুকে সহজ নিয়ম যেমন খাওয়ার পর থালা বাসন গুছিয়ে রাখা, খেলনার জিনিসপত্র জায়গায় রাখা শেখাতে হবে।

মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য

শিশুর স্বাস্থ্য তার শেখার সক্ষমতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সুতরাং, শিশু মানসিক বা শারীরিকভাবে পিছিয়ে আছে কিনা তা চিহ্নিত করা জরুরি।

খেলা-ভিত্তিক শিক্ষার ব্যবহার

খেলা-ভিত্তিক শিক্ষা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। প্রাক প্রাথমিকের শিশুদের স্কুলের পাঠ্যক্রমে খেলার মাধ্যমে শেখার উপকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

পরিবারের ভূমিকা

প্রথম স্কুলে যাওয়ার আগে পরিবারই শিশুর প্রথম শিক্ষালয়। পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ শিশুর আত্মবিশ্বাস এবং শেখার আগ্রহ বাড়ায়।

শিশুর মানসিক বিকাশের উপর ভিত্তি করে তার প্রথম স্কুলের অভিজ্ঞতা সফল বা চ্যালেঞ্জপূর্ণ হতে পারে। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত শিশুর ব্যক্তিগত চাহিদা বিবেচনা করা

প্রত্যেক শিশু ভিন্ন, তাই তাদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য সময় এবং পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। অভিভাবকদের এ বিষয়টিকে সহজভাবে গ্রহণ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ

ফিনল্যান্ডে শিশুদের সাত বছর বয়সে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি করানো হয়। এর আগে তাদের খেলা-ভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হয়, যা তাদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সিঙ্গাপুরে শিশুদের চার বছর বয়স থেকেই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। এখানে সামাজিক দক্ষতা এবং মানসিক প্রস্তুতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে অনেক অভিভাবক শিশুকে অপ্রস্তুত অবস্থায় স্কুলে পাঠিয়ে দেন। এটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শিশুকে স্কুলে দেওয়ার আগে তার মানসিক এবং শারীরিক প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম স্কুলের ভালো অভিজ্ঞতা শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তার শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। তাই, শিশুর প্রথম স্কুলে যাওয়ার আগে অভিভাবকদের উচিত তাকে শেখার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ প্রদান করা।

লেখক: লেখক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, ইগনাইট পাবলিকেশন্স

আগামী শিক্ষাবর্ষেও পুরোনো পদ্ধতিতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ এবারও লটারির মাধ্যমেই স্কুলে ভর্তি হবে শিক্ষার্থীরা।
প্রথম শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা হবে। তাই, শিক্ষা জীবনের শুরুতেই চাপে শিশুরা। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সন্তান নিয়ে অভিভাবকদের কোচিংয়ে ছোটাছুটি।
মাত্র ৯ বছর ৯ মাস বয়সেই অসাধারণ গাণিতিক প্রতিভা দিয়ে সবার নজর কেড়েছে আব্দুল্লাহ আল আমিন। দারিদ্র্য ও অপুষ্টির মধ্যে বেড়ে ওঠা এই শিশুটি তার ব্যতিক্রমী মেধার জন্য অনেকের কাছ থেকেই ‘গণিত বিস্ময়’...
এনসিটিবির পাঠ্যবই ছাপানোর দরপত্র এখনো শুরু হয়নি। প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানোর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হলে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আফগানিস্তানে যেকোনো ধরণের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি আইন পাস হয়েছে দেশটিতে। ইসলামিক আইনে বিক্ষোভের কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের পরিচয় আমরা একাত্ব। সবার আগে বাংলাদেশি, এরপর ধর্মীয় পরিচয় পরে। ধর্মীয় পরিচয়ে নয় সংখ্যালঘু পরিচয়ে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার দর্শনে...
ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা। জোয়ারের সময় নোনা পানিতে প্লাবিত হচ্ছে লোকালয়, নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার জন্য...
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সঠিক পথেই অগ্রসর হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে সফল হয়েছে তার প্রশাসন। সিবিএন নিউজকে...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর