প্রথম শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা হবে। তাই, শিক্ষা জীবনের শুরুতেই চাপে শিশুরা। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সন্তান নিয়ে অভিভাবকদের কোচিংয়ে ছোটাছুটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা লুটবে অনেকে। কোচিং নির্ভরতার কারণে বাধাগ্রস্ত হবে শিশুদের মানসিক বিকাশও। তাই ভর্তি পরীক্ষার বিকল্প খোঁজার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
রাজধানীর কাকরাইলের বাসিন্দা ফয়সাল সিদ্দিকী। তার ছেলে ফারাজ পড়ে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে। আগামী বছর প্রথম শ্রেণিতেই ভর্তি করাতে চান মতিঝিল আইডিয়ালে। তাই চলছে প্রস্তুতি।
অভিভাবক ফয়সাল সিদ্দিকী বলেন, প্রতিযোগিতায় বাচ্চাদের চেয়ে আমরা অভিভাবকরাই বেশি উৎসাহী হই, কিছু কোচিং সেন্টার আমাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তির জন্য সহযোগিতার গ্যারান্টি দিয়ে থাকে।
প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে ‘নামমাত্র’ পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একইসাথে স্কুলের আশপাশের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া এবং সিট অনুযায়ী ভর্তির কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তবে মন্ত্রীর আশ্বাসের পরও ভর্তি পরীক্ষার দৌড়ে নেমেছেন অভিভাবকরা। অনেকেই, শিশুকে নিয়ে ছুটছেন কোচিংয়ে। ফলে চাপে কোমলমতি শিশুরা।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিশুদের আবারো অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে। উন্নত দেশের মতো প্রাথমিকে এলাকাভিত্তিক ভর্তির পরামর্শ তাদের।
শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক বলেন, প্রথম শ্রেণিতে একটি শিশু যাবে, একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের অধীনে লেখাপড়া শুরু করবে। তার শিক্ষা পরিবেশটা হওয়া দরকার সাবলীল,পারিবারিক থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত।
ভর্তি পরীক্ষা বাতিলে লটারি পদ্ধতি ছিল মন্দের ভালো। তাই স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটতে হবে সরকারকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, রাতের পর রাত জেগে থাকে বাচ্চার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। বাচ্চাদের ওপর মানসিক নির্যাতন এটা। পরীক্ষা রাখলে অনেক স্বজনপ্রীতি–দুর্নীতি হয়।
শিক্ষাজীবনের শুরুতেই ভর্তি পরীক্ষা বা কোচিং নির্ভর হলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।



