পঞ্চাশোর্ধ্ব শাহরুখ কোনোরকম রাজনৈতিক রং না মেখেও সিনেমার মাধ্যমেই আমজনতাকে সচেতনতার পাঠ দিয়েছেন! ছবির নামটি ‘জওয়ান’।
সিনেমার সংলাপে যখন কিং ভক্তদের অনেকেই দিল্লির মসনদে আসীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ খুঁজে পেয়েছেন, তখন শাহরুখ দরাজ গলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করলেন।
দিল্লিতে জি-২০-র সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহরুখের মুখে শোনা গেল মোদির প্রতি তুষ্টি বাক্য । বললেন, ‘মোদিজি জি-২০-র সাফল্যের জন্য আপনাকে অভিনন্দন। উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বিশ্বের দরবারে সকল রাষ্ট্রকে একসুতোয় বাঁধল জি-২০। এই সাফল্য প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে সম্মান ও গর্বের। স্যর, আপনার নেতৃত্বে আমরা বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং ঐক্যবদ্ধভাবেই উন্নতি করব। এক পৃথিবী, এক বিশ্ব, এক পরিবার।’
শাহরুখ এর আগে তাঁর কোনো সিনেমায় ভারতের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক বিষয় নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। এবার ‘জওয়ান’ ছবিতে সেই বিরল কাজটিই তিনি করেছেন এবং তা করেছেন অত্যন্ত স্পষ্ট উচ্চারণে। যেমন: শাহরুখ ভারতে কৃষকদের আত্মহত্যা ও তার কারণ নিয়ে কথা বলেছেন। শাহরুখের অভিনীত চরিত্র ‘স্টেটমেন্ট’ দিয়েছে নির্বাচন, নির্বাচনের পদ্ধতি ও সঠিক জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের বিষয়টি নিয়েও। সেই সঙ্গে জাত-পাত ও ধর্মের ভিত্তিতে করা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বর্জন করার আহ্বানও নিজ মুখেই জানিয়েছেন শাহরুখ খান।
এ ধরনের ‘স্টেটমেন্ট’ ঘরানার বক্তব্য এর আগে কোনো চরিত্রেই খুব একটা স্পষ্টভাবে দেননি রোমান্স কিং। তবে কি ভারতের বর্তমান রাজনীতির ধারাই বদলে দিল তাঁকে? ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির সঙ্গে শাহরুখের অতীত সম্পর্কের সমীকরণ মাথায় নিলে কিন্তু তেমনটাই মনে হতে বাধ্য।
অন্যদিকে, অনেকের মতে, একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে শাহরুখ জি-২০ সাফল্য নিয়ে কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, অ্যাটলি পরিচালিত ‘জওয়ান’ ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যাচ্ছে শাহরুখ খানকে। পুলিশ অফিসারের চরিত্রে রয়েছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী নয়নতারা। খলনায়কের চরিত্রে আছেন বিজয় সেতুপতি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সানিয়া মালহোত্রা, সুনীল গ্রোভার, ঋদ্ধি ডোগরা, সঞ্জিতা ভট্টাচার্য প্রমুখ। ক্যামিও চরিত্রে দেখা মিলেছে দীপিকা পাড়ুকোন ও সঞ্জয় দত্তের।


তামিল ‘থাই নাড়ু’র নকল ‘জওয়ান’!
‘জওয়ান’-এ শাহরুখের আধা অভিনয় করে দিয়েছেন প্রশান্ত!
ছুটছে ‘জওয়ান’, চার দিনেই ৫০০ কোটি
