আপনাকে স্বল্প বিরতিতে এবং ব্যতিক্রমী সব চরিত্রে পাই। ‘উৎসব’-এ কেন আগ্রহী হলেন?
জাহিদ হাসান: চলচ্চিত্রটির নির্মাতা তানিম নূরের সঙ্গে আমার আরেকটি প্রজেক্ট করার কথা ছিল। ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। এর মধ্যে তিনি একদিন বললেন, ভাইয়া আমি সিনেমা করছি, আপনাকে থাকতে হবে। জানতে চাইলাম কেমন এটা? তিনি বললেন, এটা হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ক্রিসমাস ক্যারল-এর অনুকরণে। বললেন, আমরা এমন নাটক করেছি, কিন্তু সিনেমা হয়নি। সেটা করতে চাই। এরপর সিনেমার আর্টিস্টদের নাম শুনলাম—শুনে খুবই ভালো লাগল। রাজি হয়ে গেলাম।
এই সিনেমায় ৯০ দশকের অনেক শিল্পী কাজ করেছেন। যাদের সঙ্গে বহু বছর পর কাজ করার সুযোগ হয়েছে। যেমন বলা যায়, এই সিনেমার সুবাদে আফসানা মিমির সঙ্গে প্রায় ২০-২৫ বছর পর কাজ করা হয়েছে। যখন নির্মাতা তানিম নূর গল্প ও চরিত্রগুলো নিয়ে কথা বলছিলেন এবং জানতে পারলাম কারা কারা অভিনয় করবেন—তখন আর না করতে পারিনি। এক কথাতেই রাজি হয়ে গেলাম।

সিনেমার ট্রেলারে জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, অপি করিমসহ অনেকে নিজেদের নামেই কথা বলেছেন। শুধু আপনাকেই অন্য নামে ডাকা হচ্ছে। কারণটা কী?
জাহিদ হাসান: আমাকে জাহাঙ্গীর নামে ডাকা হচ্ছে। তবে শুধু আমাকে নয়, তারিক আনাম খানসহ অনেকেই অন্য নামে আছেন। তবে যাদের কথা বললেন, তারা আসলে ভূতের চরিত্রে যখন পর্দায় আসছেন, তখন নিজেদের নামেই কথা বলছেন।
সিনেমাটির একটি ট্যাগলাইন ‘পরিবার ছাড়া দেখা নিষেধ’। কেন?
জাহিদ হাসান: সিনেমার নাম শুনেই বোঝা যায়, ‘উৎসব’ কেমন ঘরানার। মজার বিষয় হচ্ছে—ঈদের সিনেমার তালিকায় এবারই প্রথম আমার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এর আগে যতগুলো সিনেমা করেছি, কোনোটাই ঈদে মুক্তি পায়নি। ‘উৎসব’ হচ্ছে পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি সিনেমা। তাই এমনটা বলা।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
জাহিদ হাসান: এতে অনেক তারকা আছেন। দেশের দর্শকদের কাছে তারা সবাই বেশ পরিচিত। শুধু ৯০ দশকের শিল্পীই নয়, এই প্রজন্মের অনেকেই এতে অভিনয় করেছেন। মনেই হয়নি শুটিং করছি, পরিবেশটা এমন ছিল যেন পরিবারের সঙ্গেই আড্ডা দিচ্ছি। শুটিংয়ে দারুণ কিছু সময় কেটেছে।

সিনেমা দেখতে হলে যাবেন?
জাহিদ হাসান: হ্যাঁ, তবে ঈদের দিন যাওয়া হবে না। ঈদের পর ঈদের সিনেমাগুলো দেখতে হলে যাওয়া হবে। শুধু নিজের সিনেমা নয়, অন্যদের সিনেমাও দেখা হবে। এবার ঈদে বেশ কিছু ভালো সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। দর্শক হলে গিয়ে সিনেমা দেখলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে। এই কথাটা এর আগেও বহুবার বলেছি। আমি মনে করি, বিভিন্ন উৎসবে দর্শকদের হলকেন্দ্রিক হওয়া উচিত।
নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জের প্রতি আপনি বেশ দুর্বল। এবার ঈদ কি সেখানে করছেন?
জাহিদ হাসান: মা-বাবা যত দিন বেঁচে ছিলেন, তত দিন সিরাজগঞ্জে ঈদ করেছি। এমনও হয়েছে, ঢাকা থেকে ৬-৭ ঘণ্টা জ্যাম ঠেলে বাসায় গিয়ে হাজির হয়েছি। মা বলতেন, বাবা তুই এসেছিস, ঈদ আনন্দটা এতক্ষণে শুরু হলো। এখন ঢাকাতেই ঈদ করা হয়। গতবার ঈদে পরিবারের সবাই ছিল। এবার মেয়েটা নেই, দেশের বাইরে চলে গেছে। এবার মেয়েকে ছাড়াই কোরবানির ঈদটা পালন করা হবে।

ঈদের দিনটি কীভাবে কাটাবেন?
জাহিদ হাসান: এই ঈদে তো কোরবানি নিয়েই ব্যস্ত থাকা হয়। সকালে নামাজ শেষে গরু কোরবানি দেওয়া হবে। তারপর কাটাকাটি, বণ্টন, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ—এভাবেই দিনটি কাটবে। পুরো দিনটিই বাসাতেই থাকা হবে।
আপনি নানা ধরনের চরিত্র করেছেন। তবে দর্শকদের মনে আপনাকে নিয়ে একটা ইমেজ আছে—‘আপনি মজার মানুষ’। এমনকি কাউকেই আপনি, ‘সোনা-ময়না’ সম্বোধন ছাড়া কথা বলেন না। ঈদকে ঘিরে নিশ্চয়ই মজার স্মৃতি আছে?
জাহিদ হাসান: আমিও তো রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। রেগে যাই, ভুল করি। তাই আশেপাশের মানুষদের আদর করে কথা বলি—যেন পুষিয়ে যায়। আমার নিজেরও ভালো লাগে।

আর মজার স্মৃতি?
জাহিদ হাসান: এই মুহূর্তটা পার হয়ে গেলেই সেটা স্মৃতি হয়ে যায়। তা ভালো-মন্দ যাই হোক না কেন! আসলে বড় হওয়ার পর ছোটবেলার উৎসব বা আনন্দের স্মৃতিগুলো সবারই খুব বেশি মনে পড়ে। আমারও তাই। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় আমাদের একা কোরবানি দেওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। আমরা আর মামারা মিলে গরু কিনতাম। বাবা-মামা ও মামাতো ভাই সবাই মিলে হাটে যেতাম। গরু কিনে বাসায় ফেরার সময় কার হাতে গরুর রশি থাকবে—এটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা হতো। আমি এটুকু পর্যন্ত গরুর দড়ি ধরে নিয়ে যাব, এরপর আরেক ভাই—এভাবে। সেই সময়টা এখন খুব মিস করি। এখন আমরা সবাই আলাদা কোরবানি দিই। তবে আমাদের মধ্য থেকে সেই আনন্দটা হারিয়ে গেছে। এটা খুব মিস করি।



