বিগত দেড় দশকে দেশের নাটক, সিনেমা ও সংগীতসহ শোবিজ তারকাদের অনেকে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। কেউ কেউ সেখানেই এখন স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। কেউ-বা আবার দেশে ফিরে সীমিত পরিসরে কাজ করছেন। তবে এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।
কেন এভাবে দেশ ছাড়ছেন তারকারা—এই প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়। সম্প্রতি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মিশা সওদাগর। তিনি স্পষ্ট জানান, কাজের সংকটই মূলত তারকাদের বিদেশে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ।
মিশা বলেন, ‘কাজ না থাকলে শিল্পীদের কী করার আছে? একসময় দিনে চার-পাঁচটা সিনেমার কাজ করেছি। সকাল ৭টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং চলত। এখন সেই এফডিসি প্রায় বন্ধ। যে শিল্পীরা দেশ ছেড়েছেন, তাদের কি কারও মন চাইছিল? অমিত হাসান, মৌসুমী, ইমন, আলেকজান্ডার বোসহ অনেকেই চলে গেছে। মাহিয়া মাহিও এখন যুক্তরাষ্ট্রে। কাজ থাকলে তারা কেউই যেত না।’
নিজের কথাও উল্লেখ করেন মিশা সওদাগর। তাঁর পরিবার অনেকদিন ধরেই স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে। বছরের বড় একটা সময় পরিবারের সঙ্গে তিনি নিজেও সেখানে থাকেন।
শিল্পীদের জীবনযাত্রার চাপ নিয়ে মিশার ভাষ্য, ‘শিল্পীদের কাজ থাকুক বা না থাকুক, অনেক কিছুই মেইনটেইন করতে হয়। চেহারা, পোশাক, গাড়ি, মোবাইল, ঘরের পরিবেশ—সবকিছুতেই একটা মান ধরে রাখতে হয়। আমরা কাজ করি পরিবারের জন্য, বেঁচে থাকার তাগিদে। কিন্তু কাজই যদি না থাকে, ইনকাম যদি বন্ধ হয়ে যায়, তখন একজন শিল্পী কী করবে।’
যোগ করে বলেন, ‘বিদেশে গেলে অন্তত স্থায়ীভাবে কাজ পাওয়া যায়, পরিবার নিয়ে টিকে থাকা যায়। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়ছেন। এটা তাদের দোষ নয়, পরিস্থিতির চাপ।’
মিশা সওদাগরের মতে, স্থানীয় চলচ্চিত্র শিল্পে কাজের পরিমাণ বাড়লেই তারকারা আবার দেশে ফিরে আসবেন।


ইরফান সাজ্জাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, যা বলছে বাচসাস
