আইয়ুব বাচ্চু বা এবি নিজেকে পরিচয় দিতে ভালোবাসতেন প্রথমত একজন গিটারিস্ট হিসেবে; তারপর গায়ক। তবে অসংখ্য গানের সুরকার তিনি। তাঁর হাত ধরেই ক্যারিয়ারে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন অনেক শিল্পী। দীর্ঘ কয়েক দশক ব্যান্ড সংগীত জগতকে মাতানো এ তারকা ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মারা যান। তাঁর জীবন ও গান রহস্যের নানা কথা তুলে ধরা হচ্ছে তারই বয়ানে—
শুধুই কি সুরের সাগরে ভেসে বেড়িয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু? না; অনেকটা পরিশ্রম করতে হয়েছে।
এবির ভাষ্য: এই পথ পেরুতে আমার পায়ের তলা ক্ষয়ে গেছে। হৃদয় অনেকটা রক্তাক্ত হয়ে গেছে।মান-অভিমানের পাহাড় অনেক বড়। ভালোবাসার জোয়ার বয়ে গেছে। পেয়েছি অনেক। একজন মানুষের যা যা পাওয়ার, সব পেয়েছি।
এত ভালোবাসা নিয়ে চলে যাওয়া আইয়ুব বাচ্চুর। এই কৃতি ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গানের জগতে আসেন ব্যান্ড ফিলিংস-এর মাধ্যমে। এর আগে বন্ধুদের সাথে ছোটখাটো অনুষ্ঠান করতেন। কিন্তু ১৯৭৮ সাল থেকে ফিলিংস-এর সাথে তিন বছর তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেলে ইংরেজি গান করেছেন। গিটার হাতে তুলে নেওয়া নেওয়ার বিষয়টি ছিল ১৯৭৬ সালে।
এবির ভাষ্য: ৭৬’ সালে ব্যান্ডের শিক্ষকের কাছ থেকেই প্রথম গিটার হাতে তুলেছিলাম।
১৯৯১ সালে এবি গঠন করেন এলআরবি। তিনি একক অ্যালবাম করেছেন ১৬টি। আর ব্যান্ড অ্যালবাম করছেন ১২টি। ৯২ সালে তিনি একসঙ্গে দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ব্যবসায়িকভাবে লোকসানের আশঙ্কা থাকলেও আইয়ুব বাচ্চু পিছপা হননি।
এবি ভাষ্য: অ্যালবাম করতে গিয়ে অনেক বেশি গান হয়ে যায়। ২২টি। ডিসট্রিবিউটরকে (সারগাম) বললাম কী করব? তারা বলল, ডাবল করব? আমি ‘হ্যাঁ’ বলে দিই। সারগাম থেকে বের হয়। অ্যালবামটি ‘এলআরবি ১’ ও ‘এলআরবি ২’।
কষ্ট’ ও ‘ফেরারি মন’- এই দুটি অ্যালবামের গান বাংলাদেশের বড় শহর ছাড়িয়ে ছোট ছোট শহরেও আইয়ুব বাচ্চুর নামকে পরিচিত করে তোলে। এরমধ্যে ফেরারি মন ছিল আনপ্ল্যাগড।
এবির ভাষ্য: এটা লাইভ আনপ্ল্যাগ অ্যালবাম। ফেরারি মন। এটি বাংলাদেশের প্রথম আনপ্ল্যাগ। কী হবে সেটা ভাবিনি। সুনীল দাকে (বেহালাবাদক সুনীল চন্দ্র দাস) বলেছি বাজান। তিনি প্রাণ ঢেলে বাজালেন। অসাধারণ হয়েছে বলেই সবার কাছে প্রশংসা পেয়েছি।
আইয়ুব বাচ্চু বা এলআরবির অ্যালবামে একজন গোপন সুরকার থাকত। নাম রবিন।
এবির ভাষ্য: এটা মূলত আমি নিজেই। আমার ডাকনাম। পরিবার ও কাছের মানুষেরা জানেন। কষ্টসহ বেশকিছু গানের সুরকার হলো রবিন।


লতা মঙ্গেশকরের সাথে প্রেম ছিল ভূপেন হাজারিকার!
