বাংলাদেশে ছায়ানটে হামলার ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে ওপার বাংলাতেও। শুধু বক্তব্য বা বিবৃতিতেই নয়, গান আর সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নিয়েছেন কলকাতার শিল্পীরা। সেই প্রতিবাদেরই এক মানবিক ছবি উঠে এল প্রযোজক রানা সরকারের বড়দিনের ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’র গানের অ্যালবাম প্রকাশ অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই ছিল আবেগ। মুখে চওড়া হাসি, প্রবল ঠান্ডা উপেক্ষা করে হালকা পোশাকে হাজির সুরকার ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। কারণটাও বিশেষ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার শুনছেন অরিজিৎ সিংহের গাওয়া প্রথম কীর্তন ‘ক্ষণে গোরাচাঁদ ক্ষণে কালা’। সেই গানের সুরকার যে ইন্দ্রদীপ নিজেই এই স্বীকৃতিই যেন তাঁর আনন্দের বড় কারণ।
কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই ফিরে আসে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ। ছায়ানটে হামলার প্রতিবাদে কলকাতার শিল্পীমহল যে চুপ থাকেনি, তার স্পষ্ট বার্তা দেন জয়তী চক্রবর্তী। সাধারণত রাজনীতি বা প্রতিবাদে মুখর না হলেও, এ দিন তিনি গানকেই প্রতিবাদের ভাষা বানালেন। কবীর সুমনের ‘সে চলে গেলেও’ গেয়ে জয়তীর কণ্ঠে ধ্বনিত হল বার্তা—
‘যতই ছায়ানট গুঁড়িয়ে-পুড়িয়ে দেওয়া হোক, গানকে মুছে ফেলা যায় না। গান থাকবে শিল্পীদের কণ্ঠে, থাকবে মানুষের হৃদয়ে।’
এর পর একে একে ‘কা তব কান্তা’, ‘দেখ দেখ কানাইয়ে’—ভক্তির গানের মধ্য দিয়েই উঠে এল মানবিকতার আহ্বান। জয়তীর এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।
বাংলাদেশের ঘটনার প্রভাব যে কেবল সীমান্তের এপারে থেমে থাকেনি, তার আরেক উদাহরণ লগ্নজিতা চক্রবর্তী। বাংলাদেশের ঘটনার পরই নিজের রাজ্যে হেনস্থার শিকার হন তিনি। মঞ্চে ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির ‘জাগো মা’ গান গাওয়াই ছিল তাঁর অপরাধ। সেই গানই এ দিন আবার গাইলেন লগ্নজিতা। গান শেষ হতেই করতালিতে ফেটে পড়ে অনুষ্ঠানস্থল। যেন এইভাবেই জানিয়ে দেওয়া হল, সংস্কৃতি দমিয়ে রাখা যায় না।
এই সব ঘটনাই ঘটেছে সোমবার, ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির অ্যালবাম প্রকাশ অনুষ্ঠানে। যিশু সেনগুপ্ত, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ছাড়া ছবির প্রায় গোটা দলই উপস্থিত ছিলেন। তবে আসতে পারেননি কবীর সুমন, অরিজিৎ সিংহ ও গীতিকার ঋতম সেন।


অ্যাভাটারের জন্য ১৮ কোটির পারিশ্রমিক গোবিন্দর! চুপিসারে হলিউডে ভারতীয় অভিনেতা?
