জুনের মধ্যে পোষা হাতির তালিকা করতে হবে। জুলাইয়ে হবে হাতির মালিকসহ নিবন্ধন ও ট্যাগিং। প্রাচীন হাদানী পদ্ধতি বাতিল করে আধুনিকভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে হাতিকে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও বন ভবনে পোষা হাতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।
এক সময়ের আভিজাত্যের প্রতীক হাতি এখন সড়ক-মহাসড়কে চাঁদা তোলে। নেই সার্কাসের আগের জৌঁলুস। তবুও হাতি দিয়ে ব্যবসা করছে এক শ্রেণির মানুষ। বন বিভাগের হিসেবে, এমন ৯৬টি হাতি আছে সারা দেশে। যার বেশির ভাগ সিলেট বিভাগে।
পোষা হাতি রক্ষণাবেক্ষণে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিধিবিধানের খসড়া প্রকাশ করেছে বন বিভাগ। এতে হাতি নিয়ে ব্যবসা ফৌজাদারি অপরাধ। পোষা হাতির মালিকদের সাথে মতিবিনময় সভায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয় তালিকাসহ নিবন্ধন করতে হবে জুনে।
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী বিভাগের বন সংরক্ষক ছানাউল্ল্যাহ পাটুয়ারি বলেন, ‘আইনে আপনার হাতিকে আগের মতো ব্যবহারের সুযোগ নাই, এই মেসেজটা আপনাদের বুঝতে হবে। প্রথমে আমরা নিবন্ধন করবো কার কার কাছে হাতি আছে।’
বন সংরক্ষক আর এস এম মুনিরুল ইসলাম হাতির মালিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার থেকে আপনাদের দরদ থাকার কথা বেশি। আপনিও চান হাতিটি ভালো থাকুক। কি করলে হাতি ভালো থাকবে এমন প্রস্তাবনাই দেওয়া উচিত।’
এ সময় বিধিবিধান শিথিল করার দাবি জানান মালিকরা। সরকারের সাথে যৌথ ব্যবস্থাপনায় হাতি পালন করতে চান তারা।
হাতির মালিক আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের একার পক্ষে এভাবে হাতি পালা সম্ভব না। সরকার যদি ৫০ শতাংশ দেয়, আমরা ব্যক্তিমালিকানারা ৫০ শতাংশ দিলাম এভাবে হেল্প হয়।’
আলোচকেরা জানান, হাদানি পদ্ধতিতে আর হাতির প্রশিক্ষণ হবে না। ব্যক্তি পর্যায়ের হাতির বিচরণে বন ব্যবহার করাও যাবে না।
বন সংরক্ষক উপপ্রধান জাহিদুল কবির বলেন, ‘হাদানি পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে না। আমরা আপনাদের পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে প্রশিক্ষণে সহায়তা করবো।’
প ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল বলেন, ‘সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে। এক বছর থেকে দুই বছর কিংবা তিন বছর পর পরিবর্তন আসবে। আপনারা কোনো মালিক সহায়তা করবেন, কেউ আবার করবেন না। তবে তারাও করবে যেহেতু আইন হয়ে গেছে।’
বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে ব্যক্তি পর্যায়ের হাতি যৌথ ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসা হবে। যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজার বা সিলেটের কোনো একটি নির্ধারিত এলাকায় হাতি লালনপালনের পরিকল্পানা হচ্ছে।



