গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। গর্ভকালীন খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৪.৫ থেকে সর্বোচ্চ ৫.৫ মিলিমোল/লিটার হতে পারে। খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে এই মাত্রা ৫ থেকে ৬ মিলিমোল/লিটার হতে পারে।
ঝুঁকিতে কারা
• বয়স যদি ২৫-এর বেশি হয়।
• ওজন/বিএমআই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে।
• শারীরিক পরিশ্রম না করে সারাদিন শুয়ে বসে থাকার প্রবণতা থাকলে।
• পরিবারে কারো ডায়াবেটিস থাকলে।
• পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস থাকলে পরবর্তী গর্ভধারণেও ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকি থাকে।
• কিছু কিছু অসুখ যেমন থাইরয়েডের সমস্যা, হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, পলিসিস্টিক ওভারি, কোলেস্টেরল বেশি থাকলে তাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
• কোনো নারীর যদি আগের গর্ভাবস্থায় অনেক বড় সন্তান (চার কেজি বা তার বেশি ওজনের) প্রসব হয়ে থাকে, তারও উচ্চ ঝুঁকি আছে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার।
• জাতিগত কারণে ঝুঁকি– বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে নারীদের মধ্যেও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কখন পরীক্ষা করতে হবে
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস দুইভাবে হতে পারে। একটি হলো, রোগীর আগে থেকেই ডায়াবেটিস আছে, বর্তমানে গর্ভবতী হয়েছেন। আরেকটি হলো, রোগী গর্ভবতী হওয়ার পর ডায়াবেটিস হয়েছে, এই অবস্থাকে আমরা জিডিএম বা জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে থাকি।
যাদের উচ্চ ঝুঁকি আছে, তাদের প্রেগনেন্সির প্রথম ফলোআপে বা প্রথম তিন মাসের মধ্যে অবশ্যই স্ক্রিনিং করা উচিত। আর যাদের ওপরে উল্লেখ করা ঝুঁকিগুলোর কোনোটাই নেই তারা প্রেগনেন্সির ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে স্ক্রিনিং করতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের লক্ষণ
• ক্ষুধা বেশি লাগা
• পানি পিপাসা বেশি পাওয়া
• ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
• দুর্বল লাগা
• ওজন কমে যাওয়া
বেশির ভাগ সময় এই লক্ষণগুলো দেখা দিতে দিতে রক্তে সুগারের মাত্রা অনেক বেশি বেড়ে গিয়ে ক্ষতি করে ফেলে। তাই কোনো লক্ষণের কথা চিন্তা না করেই গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে রোগ শনাক্ত করার জন্য। সবচেয়ে বেশি ভালো হয় গর্ভধারণের আগেই ডায়াবেটিস পরীক্ষা করালে, বিশেষ করে যারা ঝুঁকিতে রয়েছেন। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস ধরা না পড়লেও গর্ভধারণের তিনমাসের মধ্যেই ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নেওয়া ভালো।
ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং টেস্ট বা ওজিটিটি
ডায়াবেটিস শনাক্ত করার জন্য সবচেয়ে সঠিক ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট বা ওজিটিটি। এই পদ্ধতিতে রোগীকে সকালে খালি পেটে একবার রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হয়, তারপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ শরবত পানের দুই ঘণ্টা পর আরেকবার রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক (গাইনি), চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ



