ভেন্টিলেশন শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভয়ের ছায়া নেমে আসে। সব থেকে বড় প্রশ্ন ভেন্টিলেশন থেকে আদৌ কি সুস্থ হওয়া সম্ভব? কেন দিতে হয় এই ভেন্টিলেশন? আসল ব্যবহার কী এই যন্ত্রের? কেউ ভাবেন, যিনি ভেন্টিলেশনে রয়েছেন, তাঁর বাঁচার আশা কম। তবে এটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। ভেন্টিলেশন মানেই রোগী গুরুতর অসুস্থ, কিন্তু সেরে ওঠার সম্ভাবনা এখনও থাকে।
ভেন্টিলেশন কী?
ভেন্টিলেশন হলো একধরনের সাপোর্ট সিস্টেম। যখন কোনো রোগী স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে না, অথবা শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তখন তাকে ভেন্টিলেটর যন্ত্রের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়। যেমন কিডনির সমস্যায় রোগীদের জন্য ডায়ালিসিস করা হয়, ঠিক তেমনি শ্বাসনালির কাজে সমস্যা হলে ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়।
ভেন্টিলেশনের ধরন
ভেন্টিলেশন প্রধানত দুই ধরনের হয়। একটি নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন। যেটি মুখের উপর একটি মাস্ক পরে দেওয়া হয়। এটি প্রথম ধাপের সাপোর্ট, কিন্তু কিছু সময় গুরুতর অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না। আর একটি ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন। যখন নন-ইনভেসিভ কাজ করে না, তখন নাক বা মুখের মাধ্যমে একটি নল ঢোকানো হয়। যা সরাসরি শ্বাসনালির সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং যন্ত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে।
কাদের এই সাপোর্ট লাগে?
ফুসফুসের বড় সমস্যা: যেমন নিউমোনিয়া।
মহা অস্ত্রোপচার হওয়া রোগী, যাঁদের শ্বাসনালি ঠিকমতো কাজ করছে না।
স্নায়ুজনিত সমস্যা: কিছু স্নায়ু রোগে রোগীর ব্রেন শ্বাসনালির প্রোটেকটিভ মেকানিজম ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে কফ বের করতে পারছে না, যা ধীরে ধীরে নিউমোনিয়ার সৃষ্টি করে।
এই কারণে, এই সব রোগীর শ্বাস নেওয়ার জন্য ভেন্টিলেশন প্রয়োজন হয়।
ভেন্টিলেশন থেকে রোগীকে কবে বের করা হয়?
চিকিৎসক প্রথমে ভেন্টিলেটরের ডোজ অর্থাৎ অক্সিজেনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমান হয়। পরে দেখা হয় রোগী কীভাবে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন। যদি রোগী যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া শ্বাস নিতে পারে, তখন তাকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করা হয়।
স্নায়ু রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা
স্নায়ু রোগীকে সাধারণ নিয়মে ভেন্টিলেশন থেকে বের করা যায় না। ৫-৭ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়, রোগী কাশি দিতে পারছে কি না, হাত-পা নাড়াতে পারছে কি না। সমস্যা থাকলে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ট্র্যাকিওস্কোপি করা হয়।
ট্র্যাকিওস্কোপি কী?
গলার শ্বাসনালিতে একটি ছোট পাইপ দেওয়া হয়। এর ফলে রোগী দ্রুত ভেন্টিলেশন থেকে বের করা সম্ভব হয় এবং হাসপাতালে দীর্ঘদিন থাকার কারণে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে। এরপর রোগীকে বাড়িতে রাখা হয়, যেখানে নার্স ও অক্সিজেন সাপোর্টে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি
দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা বা ভেন্টিলেশন পাইপ থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এজন্য নিয়মিত মুখ ধোয়া, ৩০-৪৫ ডিগ্রি উঁচু অবস্থায় রাখা এবং অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তবু কখনও কখনও সংক্রমণ হয়ে যেতে পারে।
ভেন্টিলেশন থেকে বাড়ি ফেরার পর নিয়ম
ভেন্টিলেশন থেকে বাড়ি ফেরার পর রোগীকে প্রয়োজন মতো বিশ্রাম নিতে হবে। হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে, সঠিক পরিমাণে খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং ঠান্ডা থেকে সাবধান থাকতে হবে।
ভেন্টিলেশন ভয়ের নয়, বরং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবন রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট। চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় রোগী সেরে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।
তথ্যসূত্র: এসটি. লোকাস কলেজ অফ হেলথ কেয়ারস



