বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভাগীয় শহর ও জেলা হাসপাতালগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। খুলনায় এ বছর মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৪০ জনে। আর চট্টগ্রামে আক্রান্ত পার করেছে ৪ হাজার। অন্যদিকে রাজশাহী, সিলেট ও বগুড়ায় হাসপাতালে শয্যা সংকটে উদ্বেগ বাড়ছে জনমনে।
চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার ছুঁইছুঁই। আর এ জেলাই এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২১ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের পাশাপাশি ৮টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্বেগ বাড়ছে সিলেটেও। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনসহ বিভাগে মোট আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪০০। ওসমানী মেডিকেলসহ জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসাধীন বহু রোগী।
রাজশাহীতে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে রামেক হাসপাতাল। হাসপাতলগুলোতে বর্তমানে ১৩৮ জন চিকিৎসাধীন। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশক নিধনের দাবি সিটি কর্পোরেশনের।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামিম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রস্তুতি আমরা বছরের প্রথম থেকেই শুরু করেছিলাম। এখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১৬টি বেড ছিল, এটি ৪৫ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, এ সপ্তাহেই হয়তো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আরও ৭টি বেড যুক্ত হবে।’
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহী মহানগরীর ৩০ ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে গিয়ে তাদের সচেতন করতে আমরা চেষ্টা করছি। এটিও এক প্রকারের যুদ্ধ।’
তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সব চেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ কেছে খুলনা বিভাগে। চলতি বছরে রেকর্ড ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরআক্রান্ত পৌনে ৮ হাজারের কাছাকাছি।
খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ শওকত আলী বলেন, ‘খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুর একটা আলাদা ইউনিট করা হয়েছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে অন্তত ৫টি বেড আমরা ডেঙ্গু রোগীর জন্য রাখছি। যেখানে বেশি রোগী রয়েছে প্রয়োজনে আমরা তা বাড়াচ্ছি।’
বরিশাল শের-ই-বাংলা হাসপাতাল প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সাধারণ মেডিসিন ওয়ার্ডেই ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। বিভাগে মোট আক্রান্ত সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়েছে, আর মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।
বগুড়াতেও দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, শেরপুরে ডেঙ্গুতে এক যুবকের মৃত্যুর পর চালু করা হয়েছে ২৫ শয্যার বিশেষ ইউনিট।
স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার না হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।


