প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। জীবনের নানা ক্ষেত্রে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, লিঙ্গসমতা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং নারীর ক্ষমতায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই দিনটি পালন করা হয়।
এই দিনটি শুধু উদ্যাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের বিষয়গুলো সামনে আনা এবং এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোও এর লক্ষ্য, যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ও সুযোগ ভোগ করতে পারবেন। নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরা হয় এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হয়।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গিভ টু গেইন’। এই প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো উদারতা ও সহযোগিতার মনোভাবকে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে মানুষকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য একে অন্যকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালের ৮ মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তবে এর সূচনা আরও আগে। ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে নারী দিবস পালন করা হয়। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল শ্রমিক আন্দোলনের।
১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বহু নারী বস্ত্রশ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি ছিল, উন্নত মজুরি, কম কর্মঘণ্টা এবং ভোটাধিকার। আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতৃত্বে এই আন্দোলন নারী অধিকার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এই দিনটি একই সঙ্গে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও অসমতা দূর করার প্রচেষ্টাকে জোরদার করতে উৎসাহ দেয়। পাশাপাশি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।



