এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে টানা চার দিন ছুটি রয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি সরকারি সাধারণ ছুটি, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন, ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে এই সময়টিকে অনেকেই ব্যক্তিগত কাজ বা ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই চারদিনের ছুটিতে ভোটের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভ্রমণে বাধা সৃষ্টি করবে কি না।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ভোট দেওয়া নাগরিক অধিকার হলেও বাংলাদেশে তা বাধ্যতামূলক নয়। আপনি ভোট দিন, এই পর্যন্তই বলা যায়। কিন্তু ভোট দিতে বাধ্য করা যাবে না। তাই ভোটারদের নিজের ইচ্ছামতো ছুটি কাটানো বা ভ্রমণ করা আইনগতভাবে কোনো সমস্যার মধ্যে পড়ে না।
তবে ভোটের দিন এবং নির্বাচনী এলাকায় যানবাহনের চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় ঘুরতে চাইলে কিছুটা পরিকল্পনা করতে হয়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চসহ দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া অন্যান্য যানবাহন ভোটের দিনে চলতে পারবে না।
ভোটাররা যেকোনো এলাকায় নিজস্ব ভ্রমণ করতে পারেন। তবে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা হতে পারে নিরাপত্তার কারণে। দেশের নাগরিক পুরো দেশেই ঘুরতে পারে। তবে ভোটের সময় যেসব এলাকায় নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে নিরাপত্তার স্বার্থে বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা হতে পারে।
নির্বাচনের ছুটিতে সাধারণ মানুষ অনেকেই ঘুরতে যেতে চান। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তার কারণে কিছু এলাকায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট, হোটেলে পরিচয় যাচাই ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জবাবদিহি থাকতে পারে। তাছাড়া পর্যটন কেন্দ্রগুলোও ভোটের দিন নতুন বুকিং বা প্যাকেজ রাখে না। ট্যুর অপারেটররা জানান, ভোটের দিন তারা কোনো নতুন প্যাকেজ গ্রহণ করছেন না, তবে পরের দিন থেকে দেশের ভেতরে বা বাইরে সব ধরনের বুকিং স্বাভাবিকভাবে চালু হবে।
ভোটের ছুটিতে ঘুরতে যেতেই পারেন। তবে যানবাহনের সীমাবদ্ধতা, নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা জরুরি। চার দিনের ছুটি মানে ভোটের আগে ও পরে কিছুটা সাবধানতা নিয়ে ভ্রমণ করলে মানুষ সহজে এবং নিরাপদে ঘুরতে পারবে।



