বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মামলায় পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনসহ ছয় আসামি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা।
স্বীকারোক্তি দেওয়া অন্য আসামিরা হলেন, অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান, অফিস সহায়ক (ডিসপাস) সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী সহোদর সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন। তাদের সবাইকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলায় সাত আসামির স্বীকারোক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেল নামে এক আসামি স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে এ মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ আসামিকে আদালতে আনা হলে গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামসহ ১০ জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা হক।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা প্রায় একযুগ ধরে বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগের প্রশ্নফাঁস করে আসছিলেন।
গত রোববার ‘বিসিএস প্রিলি–লিখিতসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। এতে, পিএসসির ক্যাডার ও নন–ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত রেলওয়ের ৫১৬টি পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। একটি চক্র এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিসিএসসহ ৩০টি ক্যাডার ও নন–ক্যাডার পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এর সঙ্গে পিএসসির কয়েকজন কর্মকর্তা–কর্মচারী জড়িত। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) দুজন উপপরিচালক ও গাড়ি চালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এরা হলেন, বিপিএসসির উপপরিচালক মো. আবু জাফর, মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির, অবসরপ্রাপ্ত ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী, অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম, ডেসপাস রাইডার খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান মো. নিয়ামুন হাসানকে।
এছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয় নোমান সিদ্দিকী, সোলায়মান মো. সোহেল, প্রিয়নাথ রায়, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. মামুনুর রশীদ, সাখাওয়াত হোসেন, সায়েম হোসেন, লিটন সরকার ও সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে।
সোমবার রাতে এই ১৭ জনসহ অর্ধশতাধিক জনকে আসামি করে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা হয়।
এদিকে এই ঘটনায় এরই মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি)। কমিটিকে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক কমিশনের যুগ্ম সচিব ড. আব্দুল আলীম খান। অন্য দুজন হলেন, কমিশনের পরিচালক দিলাওয়েজ দুরদানা ও মোহাম্মদ আজিজুল হক।
ভিডিও দেখুন:মঙ্গলবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়, সেখানে ফাঁস করার সুযোগ খুব কম। তারপরও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। যদি কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


প্রশ্নফাঁস: পিএসসির দুই উপপরিচালক ও গাড়ি চালক আবেদ আলীসহ গ্রেপ্তার ১৭
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন আবেদ আলীসহ ৭ আসামি
‘প্রশ্নফাঁসে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা’
