দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সম্মতির অপেক্ষায় আছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ইতোমধ্যে চীন সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত আলোচনাও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আজ রোববার বিকেলে নীলফামারীতে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে চীন সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ দল তিস্তা মহাপরিকল্পনার কারিগরি, আর্থিক ও বাস্তবায়ন কাঠামো যাচাই-বাছাই করছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সম্মতি মিললেই দেশের সর্ববৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশগত ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ খুলে দেবে।'
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, 'একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সচেতন ভূমিকাও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
নির্বাচনকে সামনে রেখে যত বাধাই আসুক না কেন, জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রিজওয়ানা আরও বলেন, 'সরকার সব ধরনের বাধা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এ দেশের জনগণ এবং ভোটাররা।'
আজ রোববার দুপুরে নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার এবং ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এর আগে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ৬টি সংস্কার কমিশন সরাসরি ভোটের অধিকার, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জবাবদিহিতার বিষয়ে কাজ করছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করেছি। ৪টি প্রশ্নের মাধ্যমে আপনাদের কাছে গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। আপনারা যদি সত্যিকার অর্থে জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব চান, তবে সংস্কারের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোটে সিল দিন।
স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণভোট একটি শক্তিশালী মাধ্যম। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের সঠিক তথ্য দিয়ে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমেই একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু জাফর।
উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী এই প্রচারণামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।



