অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি গত শনিবার থেকে হারিয়েছে কার্যকারিতা। বিশেষ করে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে জন-আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করে সরকারকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো নিয়ে শেষ হয়েছে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্ত। শুক্রবার পাস হয় ২৪টি বিল। এর আগে ৯ এপ্রিল ৩১টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৬ এপ্রিল ৭টি এবং ৫ এপ্রিল ২টি বিল পাস হয়।
রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত ও জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিসহ ১১৩টি অধ্যাদেশকে ৮৭টি বিল পাসের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চারটি পৃথক বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশ।
এছাড়াও বহুল আলোচিত গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, তথ্য অধিকার ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের বাকি ১৩টি অধ্যাদেশ সংসদের অনুমোদন পায়নি। ফলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি কার্যকারিতা এখন আর নেই।
রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশে গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা দেওয়া হলেও গণভোট, দুদক, গুমসহ ১৩টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোনো সুরাহা আসেনি। ফলে এসব অধ্যাদেশের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা কী হবে?
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী বলেন, ‘যখন পূর্ণাঙ্গ আইন পাস করা হবে, সেই পর্যন্ত এইটার কন্টিনিউ ইস্যু হিসেবে দেওয়া উচিত ছিল। সময় নিলেও কিছু কিছু পদক্ষেপ আছে মানুষের মধ্যে আশঙ্কা জাগিয়ে তোলে। এই আশঙ্কার জায়গাটা আমার মনে হয় সরকারকে সতর্কতার মাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব নিয়ে বিবেচনা করা উচিত।’
এছাড়াও গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় এর অধীনে অনুষ্ঠিত ‘গণভোট ও এ সংক্রান্ত অন্যান্য কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন এখন।
শাবিপ্রবি পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, ‘গণভোটের কিছু বিষয় যেমন সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়েছে, এগুলো দুঃখজনক হিসেবেই আমি বলব। বিএনপি এ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করবে, ভাববে। নতুন সরকার পূর্ববর্তী সরকারের সকল বিষয়গুলো মেনে নেবে বিষয়টা তেমন না।’
সংসদ চলমান না থাকাকালে রাষ্ট্রপতি যেসব অধ্যাদেশ জারি করেন, তা সংসদের অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা আছে। অন্যথায় অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যায়।



