কোরবানির ঈদ এলেই দেশের চামড়া খাতে শুরু হয় অস্থিরতা। কোথাও পর্যাপ্ত লবণ নেই, কোথাও সংরক্ষণের অভাব, আবার কোথাও সময়মতো সংগ্রহ না হওয়ায় রাস্তায় পড়ে থেকে নষ্ট হয় হাজার হাজার চামড়া। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন মৌসুমি ব্যবসায়ী, এতিমখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। বড় ক্ষতির মুখে পড়ে দেশের চামড়া শিল্পও।
এমন পরিস্থিতিতে এবার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। প্রথমবারের মতো বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যদের কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় মাঠে নামানো হয়েছে।
বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুলনা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী অঞ্চলের ২৯ জেলায় মোট ৪ হাজার ১৫৩ জন ভিডিপি সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সহায়তায় তাদের চামড়া ছাড়ানোর সঠিক পদ্ধতি, লবণ প্রয়োগ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ঈদের দিন সকাল থেকেই এসব সদস্য নিজ নিজ এলাকায় কোরবানির স্থানে উপস্থিত থেকে মানুষকে সহায়তা করেন। চামড়ায় যাতে কাটাছেঁড়া বা ছিদ্র না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি তারা সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানোর পরামর্শ দেন। চামড়া পরিষ্কার করা, রোদে না ফেলে ছায়ায় রাখা এবং দ্রুত লবণ প্রয়োগের বিষয়েও মানুষকে সচেতন করা হয়।
বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছর পর্যাপ্ত লবণ ব্যবহার না করায় বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ কারণে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা বড় গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং ছাগল বা ভেড়ার চামড়ায় ২ থেকে আড়াই কেজি লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি লবণ যেন চামড়ার ভেতরের অংশে সমানভাবে লাগে, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্থানীয় সংরক্ষণকেন্দ্র ও এতিমখানার চামড়া স্তূপেও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করেছেন বলে জানিয়েছে বাহিনী। বিশেষ করে দ্রুত সংরক্ষণ ও পরে ট্যানারিতে পাঠানোর জন্য চামড়ার গুণগত মান ধরে রাখতে তারা ভূমিকা রাখছেন।
শুধু সংরক্ষণ নয়, পরিবহন সংকট মোকাবিলাতেও অংশ নিয়েছেন ভিডিপি সদস্যরা। স্থানীয়ভাবে যানবাহন সমন্বয়, চামড়া গাড়িতে তোলা এবং দ্রুত নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজেও তারা সহযোগিতা করছেন। কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের চামড়া শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই অব্যবস্থাপনা, কম দাম ও সংরক্ষণ সংকটে ভুগছে। এমন অবস্থায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করা গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সারাদেশে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের দাবি, দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এই নেটওয়ার্ক কাজে লাগানো গেলে শুধু চামড়া শিল্প নয়, জাতীয় প্রয়োজনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।



