তরলীকৃত প্রাকৃতিত গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন।
ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক, যাত্রী ও স্টেশন মালিকরা। তবে বিতরণ সংস্থা তিতাস জানিয়েছে, মহেশখালি গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এর সমাধানে কাজ চলছে।
গত কয়েকদিন ধরে বেশিরভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশনেই দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে ধীরগতিতে সরবরাহ চলছে, আবার কোথাও সংকটের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে কার্যক্রম।
গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকরা। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়।
সিএনজি স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে যানবাহনের চাপ ও অপেক্ষার সময়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সিএনজি স্টেশনগুলোতে একটু লাইন আছে। এটা খুবই সাময়িক। লাইন মেরামতের কাজ চলছে, দু–তিন দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।
বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে গ্যাসের চাপ।
এদিকে, সংকটের প্রভাব শুধু সিএনজি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর অনেক আবাসিক এলাকাতেও দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।



