বিএনপি সরকারের ৬ মাসে কূটনৈতিক পদক্ষেপকে দুরদর্শী হিসেবে দেখছেন সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষকেরা। বহুমাত্রিক কূটনীতি অনুসরণ করে শুরুতেই চীন ও মালয়েশিয়া সফরের কৌশলকে ইতিবাচক বলছেন তাঁরা।বাংলাদেশ প্রথম- নীতিকে সামনে রেখে প্রতিবেশী ও দুরবর্তী প্রতিবেশী সবার সাথেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখারও পরামর্শ তাঁদের।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয় ও সরকার গঠনের পর ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম বিদেশ সফরে বহুমাত্রিক কূটনীতি অনুসরণ করায় হয়েছেন প্রশংসিত।
চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এছাড়া, দুদেশের যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহায়তার বিষয়টি উঠে আসে। মালয়েশিয়া সফরে বন্ধ শ্রমবাজার খুলে দেওয়া ও নিয়মিত করা নিয়ে আলোচনা হয়।
সরকারের প্রথম ৬ মাসে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরও ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক কূটনীতিক কর্মর্কতা কর্নেল (অব.) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিবেশী, দূরপ্রতিবেশী আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে কূটনীতিক সম্পর্ক তৈরি করে আমাদের অর্জনের লক্ষ্যে যে এগিয়ে যাওয়া এগুলোকে বলা যাবে কূটনীতিক জয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, একক শক্তি বা কারও প্রতি একতরফা, বিশেষ করে সামরিক ক্ষেত্রে এককভাবে করা যাবে না; আমাদের এমনভাবে করতে হবে যে সবার সঙ্গেই আমরা বাণিজ্য করতে চাই। কোনো বিশ্বরাজনীতিতে ঢুকতে যেন আমাদের না হয়।
মালয়েশিয়ার মাধ্যমে আশিয়ান বাণিজ্য বলয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছে সরকার। তবে কূটনীতিকরা মনে করেন, দুদেশ সফরে অর্জিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারকে আরও সময় দিতে হবে।
সাবেক কূটনীতিক কর্মর্কতা কর্নেল (অব.) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শুরুর ছয় মাস; যদি আউটপুট আশা করেন, এটা ঠিক হবে না। মালয়েশিয়ায় যেভাবে সম্পর্ক; এটাকে এখন মূলধন করতে হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, চূড়ান্তভাবে বলার এখনও সময় আসেনি। আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, তারা একক শক্তির সাথে না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়বে এটা ভারসাম্য রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে ভারত ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টাকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।



