দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের কাজ শুরু হয়েছে। হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের টিকাদানের আওতায় নিয়ে এসেছে সরকার। এছাড়াও সারাদেশে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ ও হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলায় ইনশাআল্লাহ প্রত্যেকটিতে ১০১ বেড নয়, ওটিকে আমরা ১৫১ বেডে রুপান্তর করব।'
অর্থাৎ, উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে ৫০৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করা হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। জনগণের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌছে দিতে গত ছয় মাসে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি'র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার, যেটা বলা হয়ছিল যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটা কিন্তু প্রথম অর্থবছরেই সরকার করে দেখিয়েছে। বাস্তবিকভাবে মানুষ দেখতে পেয়েছে যে, হার্টের রিংয়ের দাম কমিয়ে নিয়ে এসেছে। কিংবা চোখের লেন্সের দাম কমিয়ে এনেছে, কিংবা ডায়ালাইসিসের খরচটাকে কমিয়ে নিয়ে এসেছে...।'
তবে নতুন উদ্যেগের পাশাপাশি বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কারেরও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন বলেন, 'হামের মতো মহামারীর উদ্ভব হয়েছে, প্রকোপ হয়েছে, তো সেটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার জন্য খুব দ্রুত জাতীয়ভাবে টিকাদানের একটি আয়োজন তারা করেছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য... শয্যা বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি এবং সেভাবে কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ, এগুলো ইতিবাচক।'
গত ৬ মাসের কার্যক্রম বিশ্লেষণে সরকারের সফলতার পাল্লাই ভারী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে ডা. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, 'এখন যে উদ্যোগটি নিচ্ছেন, এই যে ৫ হাজার চিকিৎসককে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, সেই নিয়োগের সফলতা দেখবেন কখন, ৫ বছর পরে। সুতরাং সেই সময় কিন্তু আপনি বুঝতে পারবেন যে, সরকার কতটুকু সফল হয়েছে। সুতরাং এই যে উদ্যোগ, এই যে চেষ্টা, এই চেষ্টাটাকে আমি মনে করি সরকারের সবচেয়ে বড় সফলতা।'
ছয় মাসে সরকারের সাফল্য কতটা এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন বলেন, 'এখন পর্যন্ত যতগুলো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তার সাফল্য এবং সীমাবদ্ধতা- দুটোকে যদি আমরা একসঙ্গে বিচার করি তাহলে এখনও সাফল্যের দিকেই পাল্লাটা ভারী।'
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে চিকিৎসাসেবার ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।



