অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় দেশের অবস্থান এখন ভালো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে অপরাধ ঘটছে। অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় কিছু অপরাধ বেড়েছে আবার কমেছেও, ডেটা সেটাই বলছে। তবে দেশে এখন নৈরাজ্য নেই। অন্তর্বর্তী সময়ের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থা এখন। তুলনামূলকভাবে সরকার খুব খারাপ করছে এটা মনে করি না।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে, মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তাই ৫৫ লাখ মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের বাজারে এলপিজি গ্যাসের সংকট নেই বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে আমদানিকারক ও অপারেটররা। অসৎ উদ্দ্যেশে কেউ যেন মজুতদারি না করে, সে বিষয়ে আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী। এরকম হলে নিশ্চয়ই সরকার ব্যবস্থা নেবে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি সই হয়েছে। পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নেবে বাংলাদেশ। এর মূল উদ্দেশ্য পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, প্রযুক্তিগত বিনিময়, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এ চুক্তির ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করি না। বাংলাদেশ তার স্বার্থে যার সাথে প্রয়োজন তার সাথে এনগেজ হবে।
যৌথ বাহিনী বা কোনো বিশেষ অভিযান প্রশ্নে তিনি বলেন, পুলিশ তাদের এক্টিভিটি বাড়াচ্ছে। যদি প্রয়োজন হয় রাষ্ট্র বা জনগণের প্রয়োজনে আইনি চৌহদ্দির মধ্যে থেকে সরকার যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে।
ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল নিয়ে প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অজিত দোভালের সফর হলে সরকার নিশ্চয়ই সেটা জানাতো এবং আনুষ্ঠানিকভাবেই সেটি হতো। আমাদের দেশে, ভারতে অনেক গসিপ স্পেকুলেটিভ নিউজ আসে। অজিত দোভালের সফর করেছেন এমন কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তিনি বলেন, বিএনপির সাথে চাঁদাবাজির ট্যাগিংয়ের চেষ্টা আছে, এটি রাজনীতি। এটা বলছি না-এই সরকারের সময়ে, এই সরকারের সাথে কানেক্টেড, বা দলের নাম নিয়ে কেউ এটা করছে না। কিন্তু ব্র্যান্ডিং ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই আছে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে আছেন এবং আমরা তাকে চাইছি। ভারতকে তাকে হস্তান্তর করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে বোঝাতে চেয়েছে দুটি রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক ইস্যু, এখানে অন্য কোনো দেশের যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ কারো চাপ বা শর্তে কোনোকিছু করবে না। এয়ারবাস বা বোয়িং বাংলাদেশ যেটিই কিনুক সেটি বাংলাদেশ নিজের প্রয়োজনেই কিনবে।


