সাকিব থেকে ভিসি– সবাই এক!

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৩ পিএম

কিছু কিছু শব্দ ও বাক্য আছে, যেগুলো যে ক্ষেত্রেই বা যে অর্থেই ব্যবহার করা হোক না কেন– শেষতক সেগুলো বিশেষ বিশেষ অবস্থা বা পরিস্থিতির নির্দেশক। সে ধরনের শব্দ বা বাক্য ব্যবহারের পর আপনি যদি হাজার কেঁদেকেটেও বলেন, যা বলেছেন তা বোঝাননি– তবু সেটি আর বিশ্বাসযোগ্য হয় না। কারণ ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার এবং যাদের আঘাত করার, তা ঘটে যায়। ফলে এরপর যতই ক্ষমা চান বা ব্যাখ্যা দিন না কেন, সেটি স্রেফ হয়ে যায় কুমিরের কান্না।

এমন দুটি ঘটনাই পর পর ঘটল। কয়েক দিনের ব্যবধানে। ক্রিকেটের একজন উঠতি তারকা জানালেন, নারীর কর্মজীবী হওয়ার কুফলের কথা। কু-এর উল্টো পাশে সু থাকে। তবে ওই তারকার মতে, নারীর চাকরি করার কোনো সুফলই নেই। সেই স্ট্যাটাসবাণের রেশ কাটতে না কাটতেই একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য বয়ান দিলেন ওপেনের চেয়ে ‘তালেবানি’ কালচার কতটা ভালো, সাথে উপরি হিসেবে বিস্তারিত যুক্তি। এই দুই পাবলিক ফিগারের এমন প্রকাশ্য মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই মনে পড়ে যায়, এই বাংলাকে আফগানিস্তান বানিয়ে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর তালেবান হয়ে ওঠার সুপ্রাচীন মনোবাসনাপূর্ণ স্লোগানের কথা। গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকেই এমন স্লোগান অনেকবার শোনা গেছে রাজপথে। সাম্প্রতিক সময়ে সেসব স্লোগান খুব কমই কানে আসে বটে। তবে যখন তথাকথিত আইকনেরা নিজেদের বাক্যবাণ দিয়ে ওই স্লোগানকে মনে করিয়ে দেন, তখন পুরনো জুজু আবার কুডাক দিতে বাধ্য।

কে কি বলেছেন, তার বিস্তারিত একটু জেনে নেওয়া যাক।

গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘ওপেন কালচার চান না’ বলে মন্তব্য করে আবারও আলোচনায় এসেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়, এখানে (শাবিপ্রবি) ওপেন কালচার ছিল, ছেলেমেয়েরা যা খুশি, তাই করতে পারত। কেউ কিছু বলতে পারত না। কারণ, তাদের বয়স ১৮ বছর। কিন্তু আমি সাড়ে ১০টার মধ্যে হলে ঢুকতে হবে বলেছি। তারা এটার নাম দিয়েছে তালেবানি কালচার। তালেবানি কালচার নিয়ে আমি খুবই গৌরবান্বিত, এটা নিয়ে থাকতে চাই। আমি ওপেন কালচার চাই না।‘

ক্রিকেটার তানজিম হাসান সাকিব ও তাঁর ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীতআর এর কিছুদিন আগে জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের সদ্য অভিষিক্ত বোলার তানজিম হাসান সাকিবের কিছু ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে চমকে দেওয়া এই বোলার ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে লিখেছিলেন, ‘স্ত্রী চাকরি করলে স্বামীর হক আদায় হয় না, স্ত্রী চাকরি করলে সন্তানের হক আদায় হয় না, স্ত্রী চাকরি করলে তার কমনীয়তা নষ্ট হয়, স্ত্রী চাকরি করলে পরিবার ধ্বংস হয়, স্ত্রী চাকরি করলে পর্দা নষ্ট হয়, স্ত্রী চাকরি করলে সমাজ নষ্ট হয়।‘

এই দুই বক্তব্য ভালো করে পড়লে দেখা যাবে, দুই ব্যক্তিই কিছু বিষয়কে ছোট পরিসর থেকে বড় পরিসরে নিয়ে গেছেন। যেমন ধরুন, শুরুটা হয়েছে নারীর চাকরি করা দিয়ে। গণতান্ত্রিক দেশে কোনো নারী চাকরি করবেন কি করবেন না, সেটি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ব্যাপার। তবে সেটিকে এক পর্যায়ে তুলনা করা হয়েছে পরিবার ও সামগ্রিক অর্থে সমাজ ধ্বংসের কারণ হিসেবে। আবার ভিসি সাহেব রাত সাড়ে দশটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হলে ঢোকার বাধ্যবাধকতার নিয়মকে ‘মহান’ ও যুক্তিযুক্ত দেখাতে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেলামেশারই বিরোধিতা করে বসলেন। একে ‘ওপেন কালচার’ নাম দিয়ে তার বিরোধিতা করে তিনি প্রকৃতপক্ষে ‘ক্লোজড কালচার’-এর পক্ষে গেলেন। আর তার পরেই এল ‘তালেবানি’ মন্তব্য। এখন তিনি যতই ব্যাখ্যা দিয়ে বলুন যে, ভিন্ন প্রেক্ষিতে তালেবানের প্রসঙ্গ এসেছে বা তিনি ‘আসল’ তালেবান বোঝাননি– তা কতজন মেনে নেবেন? দুইয়ে দুইয়ে চার কেউ করলে তাকে কি দোষ দেওয়া যাবে? কারণ তালেবান আর ক্লোজড কালচার– দুই-ই যে সমার্থক!

শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীতশাবিপ্রবির ভিসির বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে তার অতীতও তাগিদ দেয়। কারণ ফরিদ উদ্দিনের এমন অবস্থান নতুন কিছু নয়। ২০২২ সালে ফাঁস হওয়া এক অডিও ক্লিপে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের কেউ সহজে বউ হিসেবে নিতে চায় না। কারণ সারারাত এরা ঘোরাফিরা করে।‘ ওই সময় এ নিয়ে শাবিপ্রবি উপাচার্যকে আইনি নোটিশ পাঠানো হলে, তিনি দুঃখপ্রকাশও করেছিলেন। তা এমন অবমাননাকর বক্তব্য যদি একজন উপাচার্য দিয়ে থাকেন আগে, তাহলে তার বলা এবারের ‘তালেবান’কে তো আসল তালেবানই মনে করবে সাধারণ মানুষ। আর সেই মনে করাটা কি আসলেই অবান্তর?

এই ‘অবান্তর মনে করা বা না করার’ প্রশ্নটি এসে যায় সম্প্রতি তারকা তারকা ভাব এসে যাওয়া তরুণ ক্রিকেটারের অতীতের বক্তব্যের ক্ষেত্রেও। এ নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ বলছেন, চরম নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন সাকিব। আবার কেউ কেউ সরাসরি সাকিবের পক্ষ নিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন নারীদের চাকরি করা কতটা খারাপ, তার বিস্তারিত। কেউ বলছেন, সাকিবের বক্তব্য তার সাংবিধানিক অধিকারের বহিঃপ্রকাশ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা। আরেক পক্ষ আবার বলছে, কম বয়সে মানুষ কত কিছু বলে, সেসব ধরলে কি হয়? বাচ্চা ছেলে বলে কথা!

এ ব্যাপারে তানজিম হাসান সাকিবকে জিজ্ঞেস করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডও। সেখানে দেওয়া সাকিবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হচ্ছে, তিনি কাউকে আঘাত করে ওসব পোস্ট দেননি। যেসব পোস্ট দিয়েছেন, সেগুলোর জন্য সাকিব বেশ দুঃখিত। তানজিম সরাসরি বলেছেন, ‘আমার মা একজন নারী, সুতরাং আমি কোনোদিনই নারীবিদ্বেষী হতে পারি না।’

কথা হলো, সবার মা-ই নারী হয়ে থাকেন। নারীরাই মাতৃরূপে আবির্ভূত হন এই পৃথিবীতে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাই মা যে নারীই হবেন, সেটি এখনও পর্যন্ত ধ্রুব সত্য। নারীরা মা হওয়া সত্ত্বেও নারী নির্যাতনকারীরা এই পৃথিবীতের স্বীয় অপরাধ সংঘটিত করে থাকেন। কোনো এক নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও আফগানিস্তানে তালেবান শাসকেরা নারীর অগ্রযাত্রাবিরোধী আইন করেন, নারীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেন। সুতরাং মা নারী হলেই (যেটি হওয়াই স্বাভাবিক আর কি!) কেউ নারীবিদ্বেষী হতে পারবে না– এই কথার যৌক্তিকতা ধোপে টেকে না। এটা যে স্রেফ কথার কথা, তা বুঝতে জেন্ডার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হয় না।

আবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা কম বয়সের যুক্তিও পাত্তা পায় না সাকিবের ক্ষেত্রে। কারণ সাকিব জেনে-বুঝে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা থাকা বয়সেই কথাগুলো বলেছিলেন। ফলে তিনি ছোট খোকা, সেটি বলার সুযোগ আসলে নেই। আর মত প্রকাশের বা বাক্‌স্বাধীনতা নিয়ে যারা মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন, তাদের জন্য এ দেশের সংবিধানের তৎসংশ্লিষ্ট ধারা প্রণিধানযোগ্য। সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘…২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল।‘ এবার না হয় মিলিয়ে নিন।

প্রশ্ন হলো, সাকিবের বক্তব্য কি আসলেই নারীবিদ্বেষী? সাকিব স্পষ্টভাবেই নারীর চাকরি করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি মাথায় নিলে বলতেই হয়, সাকিব নারীর এই পথে এগিয়ে যাওয়ার বিপক্ষে। যদি এ অঞ্চলের নারীদের পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে পড়ার এবং সে কারণে পুরুষদের মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে শাসিত হওয়ার ইতিহাস পড়া হয়, তবে দেখা যাবে– এসবের মূল কারণই হলো নারীদের হাতে উপার্জনের চাবিকাঠি না থাকা। এবং একে নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হিসেবেও এতদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি স্টেকহোল্ডাররা উল্লেখ করে আসছেন বটে। ফলে তানজিম হাসান সাকিব যে এই দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠীকে স্রেফ ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী করে রাখার বিশ্বাসেই আস্থাশীল, সেটি একেবারে স্পষ্ট। যিনি নারী জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ারই বিপক্ষে, তিনি নারীর প্রতি কতটা সহানুভূতিশীল – সেই বিতর্ক কিন্তু হতেই পারে।

অদ্ভুত বিষয় হলো, একজন তরুণ উঠতি ক্রিকেটার এবং সমাজে অত্যন্ত প্রাজ্ঞ-বিজ্ঞ বলে পরিচিত সুপরিচিত শিক্ষাগুরুর মনোভাবের দারুণ সাযুজ্য থাকা। যেন সাকিবের না বলা কথাগুলো পূরণ করার দায়িত্ব নিলেন শাবিপ্রবির ভিসি। এরা দুজনেই এই সমাজেরই নির্মাণ। তবে কি গত ৫২ বছরে এমন একটি সমাজই আমরা তৈরি করেছি? আবার এই দুজনের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েই কি বৃহত্তর সমাজ দায় এড়াতে পারে?    

ওপরের এত আলোচনায় একটা বিষয় স্পষ্ট যে, আফগানিস্তান থেকে আকাশপথে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা এই বাংলাদেশের অনেকের মস্তিষ্কে তালেবানি ভূত বেশ ভালোভাবেই গেঁড়ে বসে আছে। তাই তারা ‘ওপেন’ কোনো কিছুই চান না। চান সবাই শ্বাস নিক বদ্ধ ঘরে বসে। তাতে অক্সিজেনের ঘাটতি হলেও কী-ই বা এসে গেল? এমন ভাবনা জাতীয় দলের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোনো সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের শিক্ষাগুরু– সব শ্রেণিতেই পাওয়া যায়। মনে রাখা ভালো, বাজারে আগুন লাগলে দেবালয়ও রক্ষা পায় না।

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন 

বাঙালি নারীর অসীম সাহসিকতা, দেশপ্রেম, আদর্শ আর বিপ্লবের কথা যখন লেখা হয় সবার আগে আসে প্রীতিলতার নাম। শিল্পী, শিক্ষিকা, দার্শনিক, এবং নারীর আত্মমর্যাদার প্রতীক প্রীতিলকার জীবন গল্প আমাদের শেখায়,...
সমাজের চোখে শিক্ষার্থী কী? এক কথায়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ। একদিন তারা সমাজ গড়বে, রাজনীতি বলুন, অর্থনীতি বলুন, কিংবা চিকিৎসা-সশস্ত্রবাহিনী-প্রশাসন বলুন… পুরো সমাজের নেতৃত্ব দেবে, এই স্বপ্ন দেখে বলেই তো...
সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যুকে ঘিরে যে আলোচনার ঝড় উঠেছে, সেটি আমাদের সামনে সেই প্রশ্নকেই ফের উসকে দিয়েছে। তিনি একটি ‘খোলা চিঠি’ লিখে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি...
নারীদের ছাড়া এ দেশে কোনো আন্দোলন হয়নি। সর্বশেষ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও নারীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, লড়েছেন। কিন্তু তারপর? রাজনীতিতে আসা নারীকে লক্ষ্যবস্তু করে কুরুচিকর সব বক্তব্য দেওয়া কি...
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজন জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
হবিগঞ্জে পৃথক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূল হোতাসহ মোট ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জে র‍্যাব-৯-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব কর্মকর্তারা।
বেলুচিস্তানের খোজদার জেলার জিদিতে চালানো এক অভিযানে ১৯ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। বেলুচিস্তান পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর