আকাশপথে সম্ভাবনা বাড়ছে, করণীয় কী

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:০০ এএম

পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। উন্নত দেশগুলোর পরিবহন ব্যবস্থা দেশগুলোকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে গেছে। তাদের সড়ক, মহাসড়ক, রেল, জলপথ এবং সর্বোপরি বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী উন্নতি সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে ধীরে। সড়ক ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে, উন্নত হচ্ছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু এখনো বিশ্বের অন্যান্য দেশে সড়ক পথে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার দূরত্ব অতিক্রম করতে বাংলাদেশে লাগে ছয় থেকে আট ঘণ্টা। একই অবস্থা রেল ও জলপথের। এ নিয়ে কাজ করার অনেক কিছু থাকলেও এই সংকটই আবার আকাশপথের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।

সড়কপথে সময় বেশি লাগার কারণ হচ্ছে একই সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানাহনের চলাচল, রাস্তার পাশে বাজার-হাট বসা, রাস্তার বেহাল অবস্থা, এবং যেকোনো বড় শহরে ঢোকার মুহূর্তে যানজট। এসব মিলিয়ে সড়কপথে চলাচল খুবই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। অন্যদিকে ট্রেন চলাচল ব্যবস্থা কিছুটা উন্নত হলেও উন্নত দেশের তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে। এ ছাড়া রয়েছে বিশাল জলপথ, বর্ষাকালে যা আরও বিস্তৃত হয়। এখানেও খুব বড় মাপের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না।

এবার আসি আকাশপথের কথায়। সব ধরনের পরিবহন নিয়ে এক সাথে আলোচনা করা সম্ভব নয়। যা হোক বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরু স্বাধীনতার অব্যবহিত পরই, ১৯৭২ সালে । সেখান থেকে এই দীর্ঘ যাত্রায় সংস্থাটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের সব থেকে সফল বিমান সংস্থা এমিরেটেস এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানি এয়ারলাইন্স পিআইএর কাছ থেকে একটা উড়োজাহাজ ভাড়া নিয়ে। সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকায়নি সংস্থাটি। বর্তমানে

এটি পৃথিবীর অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় এয়ারলাইন্স সংস্থা হিসেবে খ্যাত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য এয়ারলাইন্সগুলো এমিরাটসের মতো না হলেও অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেছে। এদের মধ্যে কাতার, কুয়েত, সউদিয়া, ইত্তেহাদ এয়ারলাইন্সের নাম উল্লেখযোগ্য। এই সাফল্যের পেছনে রহস্য কী, আর আমাদের ব্যর্থতার কারণই-বা কী, তা খুঁজে দেখা দরকার বলে আমি মনে করি।

আমাদের ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেলের টাকাই এর মূল রহস্য। তাদের বিপুল তেল বিক্রির টাকা অকাতরে বিনিয়োগ করেছে আর গড়ে তুলেছে এই বিশাল সংস্থা। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নতি অগ্রগতির সার্বিক সাফল্যের জন্য শুধু বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও দক্ষতা; আর সেই সাথে সততা ও নিষ্ঠা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সবকিছুর সমন্বয় ঘটেছিল এমিরেটেস এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে।

আকাশপথে চলাচলের সাথে প্রত্যক্ষভাবে আরও কতগুলো শিল্প ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র জড়িত।  এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যটন শিল্প। আমিরাতের পর্যটন শিল্পের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে তাদের এয়ারলাইন্সের পেশাদারি ও সঠিক সিদ্ধান্ত বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যাত্রা অনেক আগে শুরু হলেও বিমান সেই অর্থে কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বাস করে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যেই থাকেন ৩৫ থেকে ৪০ লাখের মতো বাংলাদেশি। এরা দেশে আসা-যাওয়া করে প্রতিনিয়ত। কিন্তু অধিকাংশ যাত্রীই টিকিটের মূল্য, যাত্রীসেবা, ফ্লাইটের সময়সূচি-এসব বিবেচনায় অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সকে প্রাধান্য দেয়। অথচ প্রতিটি দেশের মানুষই তাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিজ দেশের সংস্থাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা হয় না। এর পেছনে মূল কারণ হলো সেবার নিম্নমান। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিমানের ভাড়া অন্যান্য দেশের বিমান সংস্থার চেয়ে বেশি। যারা বহু কষ্ট করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার যোগান দিচ্ছে, তাদের জন্য কিছুটা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করলে তারা উপকৃত হতে পারত। এতে বিমানের যাত্রী সংখ্যা বাড়ত। বর্তমানে রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে যেভাবে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রনোদনা দেওয়া হচ্ছে, সেভাবে বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু সুবিধা দেওয়া যায় কিনা তা দেখা দরকার। এ ছাড়া প্রতি বছর লক্ষাধিক বাংলাদেশি পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যান। বিমানের জন্য এটাও একটা স্থায়ী সুবিধা, যা অন্য বিমান সংস্থার নেই। এখানেও অতিরিক্ত বিমান ভাড়া ও ফ্লাইট বিপর্যয়ের বিস্তর অভিযোগ আসে প্রতি বছর।

এবারে আসি আভন্ত্যরীণ বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ বিমানসহ বর্তমানে মোট পাঁচটি এয়ারলাইন্স আভন্ত্যরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর মধ্যে নতুন যুক্ত হয়েছে এয়ার এস্ট্রা। এর অগে বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা যেমন এয়ার পারাবত, জিএমজি এয়ারলাইন্স, অ্যারো বেঙ্গল বড় মাপের লোকসানের মধ্যে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এয়ারলাইন্সগুলোকে অনেক ধরনের কর দিতে হয়, যা দিয়ে তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। কারণ, এমনিতেই বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় এবং বিনিয়োগ অনেক বেশি। তাই এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় তাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা সময়মতো দেওয়া গেলে এই সংস্থাগুলো প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে অন্ততপক্ষে টিকে থাকতে পারে। এসব ব্যয় কমলে বিমানের ভাড়া কমে যাবে। এতে যাত্রীর সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বাড়বে। দেশের আয়তনের তুলনায় বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর আছে আমাদের। আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে আকাশপথে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা ও সক্ষমতা বাড়ছে। এই বাজার সম্প্রসারণ শুধু দেশেই নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সমভাবে বাড়ছে। দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দুয়ার খুলে দিতে পারে। আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলো যেমন ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কায় প্রচুর পর্যটক যান। বাংলাদেশ ভ্রমণে এই পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে আকাশপথে ভ্রমণ ব্যয় কমানো জরুরি।  দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিটের দাম কমালে বহু পর্যটক এ দেশ ভ্রমণে আগ্রহী হবে, যা এই প্রতিষ্ঠানগুলো তো বটেই আমাদের অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করবে।  এর মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য। দেশের আভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন ব্যবস্থার উৎকর্ষ্য ও উন্নত সাশ্রয়ী সেবা দেশের দ্রুততম যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

 তাই দেশের সরকার ও পরিকল্পনাবিদদের কাছে প্রত্যাশা যথাযথ পরিকলনা ও গবেষণার মাধ্যমে বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতকে বিকশিত হওয়ার সব সুযোগ আর সম্ভাবনাকে অবারিত করে দেওয়া।  

ড. ইজাজ আহসান: লেখক ও গবেষক

অথচ এই দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দৌড়াচ্ছে–এমন আপ্তবাক্য শুনতে শুনতে দীর্ঘকাল আমাদের কান পচেছে। ঢাকায় বসে সিঙ্গাপুরের গল্প আমরা আগেও শুনেছি, এখনও শুনছি। বলাও হচ্ছে দম্ভভরে। আর দিনশেষে প্রিয় বাবুটার লাশ...
পর্যটককে আকর্ষণের জন্য প্রথম দরকার নিরাপত্তা। কেউ ঝুঁকি নিয়ে ঘুরতে যেতে চায় না। তাই অন্য যত কিছুই থাকুক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ভালো ব্যবস্থা না থাকা এ...
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে। রোববার রাতে ক্ষুব্ধ আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়...
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭২ জন। চলতি বছরে মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে, আর আক্রান্তের...
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বচ্ছ উপকারভোগী নির্বাচন, নির্ভুল তথ্যভান্ডার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও আন্তঃমন্ত্রণালয়...
ডলারের বাজারে আবারও চাপ বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম বেড়েছে ৫০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, জুন শেষে সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধসহ বিভিন্ন আমদানি ব্যয় মেটানোয় ডলারের দাম কিছুটা...
লোডিং...

এলাকার খবর