ভারতের জাতীয় নির্বাচন (লোকসভা) শুরু হতে আর দুই সপ্তাহও বাকি নেই। চলবে প্রায় দেড় মাস ধরে। এই নির্বাচনে প্রধান দুই দল বিজেপি ও কংগ্রেসের বাইরে অন্যদের ভূমিকা আসলে কোথায়? বিশেষ করে বাম দলগুলোর। ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার পর এক শ বছর পেরিয়ে গেছে। ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে সংসদীয় রাজনীতিতে তারা যুক্ত। কিন্তু ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে কমিউনিস্ট তথা বাম দলগুলো নির্ণায়কের ভূমিকা তো দূরে থাক, আদৌ উপস্থিতি জানান দিতে পারবে কিনা সন্দেহ। আর যদি উপস্থিতি থাকেও তা এতটাই কম যে, উপেক্ষার পর্যায়ে পড়ে যাবে। এক দিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির ছাত্রসংসদে বিজেপির ছাত্র সংগঠন বিদ্যার্থী পরিষদকে হারিয়ে বাম ছাত্রসংগঠনের জয় জয়কারে উদ্বাহু নৃত্য করার মতো কিছু হয়নি। এটা বিজেপির জন্য চপেটাঘাত হলেও ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এর প্রভাব অল্পই।
২০ বছর আগেও দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, ত্রিপুরায় ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট। আর ২০২৪-এ এসে শুধু কেরালায় বামেরা ক্ষমতায়। প্রায় ৩৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বাম-শূন্য। ত্রিপুরায়ও তথৈবচ অবস্থা। অন্যত্র আঞ্চলিক দলের সাথে যুক্ত হয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত।
একসময় জ্যোতি বসু, হরকিষেণ সিং সুরজিত, ইএমএস নাম্বুদ্রিপাদ, বাসবপুন্নাইয়া, ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত, এবি বর্ধন, চিত্ত বসু—এমন আরও কত নেতা ছিলেন, যাঁদের একটা সর্বভারতীয় পরিচয় ও গুরুত্ব ছিল। বামদলগুলোতে এখন এমন একজন নেতা নেই, যিনি ভারতীয় রাজনীতিতে একজন গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন। এর আগে জ্যোতি বসু, হরকিষেণ সিং সুরজিত বা ইন্দ্রজিৎ গুপ্তর মতো নেতারা সরকার-বিরোধী জোট গঠনের জন্য উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। আর এবার কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপি-বিরোধী জোট ইন্ডিয়া আত্মপ্রকাশের সময় থেকেই সিপিআই (এম) জানিয়ে দেয়, তারা থাকবে না। অথচ এই সিপিআই (এম) নেতৃত্বে বিজেপিকে নিয়ে ১৯৮৯ সালে কংগ্রেসবিরোধী জোট তৈরি হয়েছিল। যার ফল—বিজেপি আজ ভারতের শাসন ক্ষমতায় এবং বামেরা ভারতের রাজনীতিতে অপঙ্ক্তেয় হওয়ার পর্যায়ে।
ভারতের ইকোনমিক টাইমস পত্রিকা গত ১৬ মার্চ সে দেশের বাম দলগুলোর অবস্থা নিয়ে একটা বিশ্লেষণ করেছে। সরকার-প্রিয় এই সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৯-এ লোকসভায় বাম দলগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ। বাম দল বলতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআই (এম), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিআই, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) বা সিপিআই (এমএল), বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল (আরএসপি) এবং অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক (এআইএফবি)। অথচ ভারতের প্রথম লোকসভা নির্বাচনে ছিল শুধুই সিপিআই। মোট ভোটের ৪.৬ শতাংশ পেয়ে ২৩টা আসনে জিতেছিল। কংগ্রেস-বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আসন সংখ্যায় তারাই ছিল সর্বোচ্চ। ১৯৫৭ সালে দ্বিতীয় লোকসভা নির্বাচনে ৮.৯২ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৭টি আসনে জয় পায় সিপিআই। অর্থাৎ, প্রচণ্ড শক্তিশালী কংগ্রেসের সামনে ভারতের কমিউনিস্টরা এগিয়ে যাচ্ছিল। ২০০৪ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৫৯টি আসন পায় বাম দলগুলো। আর ১৫ বছরের মধ্যে তা নেমে আসে পাঁচ-এ। কেন?
প্রশ্নটা সোজাসাপটা, কিন্তু এক কথায় উত্তর দেওয়া অসম্ভব। তবে কোনো সন্দেহ নেই এর প্রধান কারণ বিদেশি-দেশি শক্তির লেজুড়বৃত্তি এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব। ইতিহাসের দিকে একটু তাকানো যাক। তাহলে হয়তো বিষয়টা পরিষ্কার হতে পারে। বিষয়গুলো এক এক করে আসা যাক:
এক. ১৯২১ সালে সিপিআই-এর প্রতিষ্ঠা। ১৯৩৬ সাল থেকে দলটি ছিল কংগ্রেসেরই অংশ। কিন্তু কংগ্রেসের নিয়মকানুন মানতে না পারায় তারা ১৯৪৫ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে। এই ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের মধ্যে স্যোশালিস্ট বা বামধারার যে অংশ শক্তিশালী হয়ে উঠছিল, তারা বড় ধাক্কা খায়। এগিয়ে যায় দক্ষিণপন্থীরা।
দুই. ১৯৪৭-এ ব্রিটিশের দেশভাগ মেনে নেয় সিপিআই। পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী এর বিরোধিতা করলেও শীর্ষ নেতারা তা বুঝতে পারেননি।
তিন. ‘সোভিয়েত ইউনিয়নের নির্দেশনায়’ কিছু না বুঝেই অপ্রস্তুত অবস্থায় ১৯৪৮ সালে ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়’ বলে বিপ্লবের ডাক দেন সিপিআই-এর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বি টি রণদিভে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে সাম্রাজ্যবাদের দাসানুদাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ঔপনিবেশিক শাসকের কবল থেকে মুক্ত হওয়া একটা সদ্য স্বাধীন দেশে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কতটা ক্ষতিকর, তা পরে তারা টের পেয়েছে। কারণ, ভারতের মানুষ কোনোটাই ভালোভাবে নেয়নি।
চার. তেলেঙ্গানায় নিজামশাহীর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া কৃষক বিদ্রোহ ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পরও চালিয়ে যাওয়া। এটা দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও একেবারে সাধারণ কৃষকদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। নিষ্ফল এই বিদ্রোহে প্রাণ হারান অনেক মানুষ। মনে রাখতে হবে হায়দরাবাদের নিজাম পাকিস্তানে যোগ দিতে চাইলে কংগ্রেস শাসকেরা তাঁর বিরুদ্ধে বিমানবাহিনীর সাহায্যে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং নিজাম একপর্যায়ে পরাজিত হন, পাকাপাকিভাবে ভারতের অংশ হয় হায়দরাবাদ।
পাঁচ. ১৯৫৬ সালে পার্টির পালঘাট কংগ্রেসে সিপিআই প্রথম স্বীকার করে নেয় যে, ১৯৪৭ সালে ভারত সত্যিই স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং আলোচ্য সময়ে তা যথার্থই এক সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র। একটা দলের যদি দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, কি হয়নি—তা বুঝতে নয় বছর লেগে যায়, তাহলে ওই দলে গণমানুষের সম্পৃক্ততা কঠিন একটা কাজ।
ছয়. ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধ নিয়ে সিপিআই দলে মতবিরোধ দেখা দেয়। যুদ্ধের দায় চীন না ভারতের—এ মতপার্থক্য প্রকট হতে থাকে। এর সাথে স্তালিন নিয়ে মূল্যায়ন, রুশ-চীন বিরোধ—এসব নিয়ে মতপার্থক্য এই পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ১৯৬৪ সালে পার্টি দু টুকরো হয়ে যায়। জন্ম হয় নতুন দল সিপিআই (এম)-এর। এরপর থেকে সিপিআই মস্কোপন্থী এবং সিপিআই (এম) পিকিংপন্থী বলে পরিচিতি লাভ করে। অর্থাৎ, তারা ভারতপন্থী—এই পরিচয় হারিয়ে ফেলে।
সাত. ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেন। তখন মস্কোর নির্দেশনায় সিপিআই ইন্দিরা গান্ধীকে সমর্থন করে, যা ছিল দেশের পপুলার পলিটিক্যাল সেন্টিমেন্ট বা জনপ্রিয় রাজনৈতিক মনোভাবের পুরোপুরি বিরুদ্ধে। সোভিয়েত নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য এবং ইন্দিরা গান্ধী সরকারের সাথে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা সিপিআইকে ডুবিয়েছে।
আট. রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং ওরফে ভিপি সিংকে সমর্থন করেছিল সিপিআই (এম), সিপিআইসহ বামদলগুলো। তাদের সাথে বিজেপির সমর্থনও যুক্ত হয়েছিল। বিষয়টা এমন দাঁড়ায় যে, ভিপি সিংকে ঘিরে গড়ে ওঠা সংসারে দুই সতীনের চলতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এ বিষয়ে মান্ডার রাজা ভিপি সিং-এর জীবনীকার সীমা মুস্তাফা লিখছেন, ‘বিজেপির সাথে ওই সমঝোতার জন্য একা ভিপি সিংই দায়ী ছিলেন না, এর পেছনে বামপন্থীদেরও প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল, তা এই চাল থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। বাস্তবিক, পরে বামপন্থী দলগুলো ভিপি-কে বলে যে, বিজেপির সাথে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলবেন না, তবে তাকে খোলাখুলি সমর্থন করা সম্ভব না তাদের পক্ষে।’
আসলে বাম নেতারা ভেবেছিলেন, ১৯৭৭-৭৯–এর জনতা পার্টির সরকারের মতো এতে সমর্থন দিয়ে বিজেপির কোনো লাভ হবে না। কারণ, তাদের নিজস্ব শক্তি বলে কিছু নেই। এই সিদ্ধান্ত কিন্তু বর্ষীয়ান ও পোড়খাওয়া বাম নেতারা নিয়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বর্ষীয়ান নেতারা তাৎক্ষণিক লাভের আশায় অনেক বড় বড় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তার আরও বড় প্রমাণ ১৯৪৭। অন্যদিকে বিজেপির কথা ভাবুন। তারা বুঝতে পেরেছিল, ভারতে ক্ষমতায় যেতে হলে আগে কংগ্রেসকে হটাতে হবে। তারপর অন্য কাজ। আর এখন ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় বসার প্রথম দিন থেকে কংগ্রেস মুক্ত ভারতের কথা বলছেন।
বামপন্থীদের এই একটি সিদ্ধান্তের কারণে ১৯৮৪ সালে দুটি আসন পাওয়া বিজেপি পাঁচ বছরের মধ্যে ৮৬-তে পৌঁছে যায়। আসলে এরপর বিজেপিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সঠিক সময়ে তারা সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারার কারণে আজ ১০ বছর টানা ক্ষমতায়। অন্যদিকে কংগ্রেস হটানোর মোহে নীতির প্রশ্নে সমঝোতা এবং দূরবর্তী ভবিষ্যৎ দেখতে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি ও অন্য দলের হাত মিলিয়ে বামদের আজ এই অবস্থা। তারা মানুষের আস্থা হারানোর পাশাপাশি গ্রহণযোগ্যতাকেও শূন্যে টেনে নামিয়েছে।
নয়. ১৯৯৬ সালে আবার একটা সুযোগ এসেছিল কংগ্রেসের সমর্থনে বিজেপি-বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে সরকার গড়ার। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাবে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। কিন্তু তাঁর দল সিপিআই (এম)-এর কিছু নেতার অপরিণত যৌথ সিদ্ধান্তের কারণে জ্যোতি বসুর প্রধানমন্ত্রী হওয়া আর হয়ে ওঠেনি। দলের এই সিদ্ধান্তকে তিনি পরবর্তীতে ‘হিস্টোরিক ব্লান্ডার’ বা ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
হ্যাঁ, জ্যোতি বসু সেদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে বিজেপির আজকের বাড়বাড়ন্ত হতো না—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। কিন্তু এটা ঠিক যে, ভারতের রাজনীতিতে বামপন্থীরা অন্তত এতটা অপাঙ্ক্তেয় হয়ে পড়ত না। কংগ্রেসের পাশাপাশি বাম দলগুলোর দুর্বল হয়ে পড়ার পরিণাম আজ ভারতের মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
দশ. এবার কংগ্রেসের ডাকে ইন্ডিয়া জোটে যোগ দিল না সিপিআই (এম)। শুধু কেরালার কারণে। অথচ পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় তারা কংগ্রেসের সাথেই আছে। মোদির শাসনকে তারা ভারতের জন্য বিপর্যয় আখ্যা দেবে; অথচ জোট বাধার সময় ক্ষুদ্রতা অতিক্রম করতে পারবে না, তাহলে প্রান্তিক হয়ে পড়াই তাদের জন্য ভবিতব্য।
এতক্ষণ পুরোটাই গেল পুরোনো কাসুন্দি ঘাটতে ঘাটতে। তাহলে কি ২০১৯-এর পাঁচ আসন এবার বাড়বে? না কমবে? কেরালা বাদে তামিলনাড়ু ও বিহারে শরিকদের কল্যাণে আসন পাওয়ার একটা সুযোগ আছে। কিন্তু এত দিনকার পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা? কথা তুললে গলার জোর কমতে থাকে। ভারতের প্রথম লোকসভা নির্বাচনে যে কমিউনিস্টরা ৪.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, ২০১৯-এ এসে সিপিআই ও সিপিআই (এম)-এর মিলিত ভোটসংখ্যা ছিল ২.২৫ শতাংশের সামান্য বেশি। ৬৮ বছরের ব্যবধানে এই হাল। তাই বাম দলগুলোকে নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন দখলের আনন্দে না মেতে ভারতের প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষের কাছে কীভাবে আবার পৌঁছানো যায়, সেই পথসন্ধানে নামতে হবে। এর জন্য দরকার আত্মসমালোচনা, আত্মসমীক্ষা, আত্মবীক্ষণ। এর জন্য কী নতুন প্রজন্মের বামপন্থীরা প্রস্তুত?
লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন


এক রামে কী তাহলে রক্ষা নেই মোদির
প্রচারের ভারত, বাস্তব ভারত
জাতির ওপর মুসলিম লিগের আদর্শ চাপিয়ে দিচ্ছে কংগ্রেস: মোদি
